দেড় মাসে ১২ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা! পাকিস্তান-চিনকে কড়া হুঁশিয়ারি ভারতের

797

নিউজ ডেস্ক: পূর্ব লাদাখে চিনের সঙ্গে বারবার সংঘাতের যে আবহের সৃষ্টি হয়েছে তাঁর রেষ কিছুতেই কমছে না। আর এই পরিস্থিতিতেই দেশের প্রতিরক্ষার স্বার্থে ১২ টি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালাল ভারত। আর প্রত্যেকটিতেই ভারত সফল ভাবে উৎক্ষেপণ চালাতে সক্ষম হয়েছে বলে শনিবার দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক দপ্তর তফফে দাবি করা হয়।

এদিন দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে ১২টি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালিয়েছে দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও। দেশের প্রথম অ্যান্টি-রেডিয়েশন মিসাইল ‘রুদ্রম’ থেকে শুরু করে ‘ব্রহ্মোস’ ক্ষেপণাস্ত্রের দূরপাল্লার সংস্করণ একটার পর একটা সফল পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত। ৪৫ দিনে এক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ও উইপন সিস্টেমের পরীক্ষা করে কার্যত বিশ্বের তাবড় শক্তিধর ও সুপারপাওয়ার দেশগুলিকে কার্যত তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভারত। একটা বিষয়ে পরিষ্কার যে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে ভারত যে কোনও প্রতিকূল পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে চাইছে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, এই দেড় মাসে ভারত কী কী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে নিজের শক্তিবৃদ্ধির পরিচয় দিয়েছে।

- Advertisement -

দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক তরফে জানা গিয়েছে, হাইপারসনিক টেকনোলজি ডেমনস্ট্রেটর ভেহিকল “এইচএসটিডিভি” পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের এই ধারা শুরু হয়েছিল ৭ সেপ্টেম্বর। হাই-স্পিড এক্সটেন্ডবল এরিয়াল টার্গেট ভেহিকল “অভ্যাস” ২২ সেপ্টেম্বর, দেশে তৈরি প্রথম হাই-স্পিড এক্সটেন্ডবল এরিয়াল টার্গেট (হিট) ভেহিকল “অভ্যাস”-এর পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করে ডিআরডিও। পরমাণু অস্ত্রবহনে সক্ষম মিসাইল “পৃথ্বী-২” ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে পরমাণু অস্ত্রবহনে সক্ষম ভূমি থেকে ভূমি স্বল্পপাল্লার পৃথ্বী-২ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করে ডিআরডিও।

অন্যদিকে, দূরপাল্লার “ব্রহ্মোস” ৩০ সেপ্টেম্বর, ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি দূরপাল্লার সংস্করণের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করে ভারত। লেজার গাইডেড অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (এটিজিএম) ১ অক্টোবর, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি লেজার গাইডেড অ্যান্টি ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (এটিজিএম)-এর পরীক্ষা করে ডিআরডিও। হাইপারসনিক ভূমি থেকে ভূমি মিসাইল “শৌর্য”, ৩ অক্টোবর, সম্পূর্ণ দেশে তৈরি পরমাণু অস্ত্রবহনে সক্ষম হাইপারসনিক “শৌর্য” মিসাইলের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করে ভারত। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি আদতে নৌবাহিনীর “কে-১৫ সাগরিকা” মিসাইলের একটি উন্নত সংস্করণ। সাবমেরিন বিধ্বংসী টর্পেডো সিস্টেম “স্মার্ট” ৫ অক্টোবর, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি স্মার্ট টর্পেডো সিস্টেমর পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করে ভারত।

পাশাপাশি, অ্যান্টি-রেডিয়েশন মিসাইল “রুদ্রম ১”, ৯ অক্টোবর ভারতের প্রতিরক্ষার এক ঐতিহাসিক দিন। ডিআরডিও-র তৈরি দেশের প্রথম অ্যান্টি-রেডিয়েশন মিসাইল (এআরএম) বা রেডার বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয়। সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল “ব্রহ্মোস”, ১৮ অক্টোবর, আরবসাগরে মোতায়েন দেশে তৈরি নৌসেনার স্টেলথ ডেস্ট্রয়ার শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ “আইএনএস চেন্নাই” থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয় ভারত-রুশ যৌথ উদ্যোগে তৈরি সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল ব্রহ্মোস। স্ট্যান্ড-অফ অ্যান্টি ট্যাঙ্ক মিসাইল “সন্ত”, ১৯ অক্টোবর, সামরিক বাহিনীর শক্তি-বৃদ্ধির লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নেয় ভারত। ওড়িশার উপকূলবর্তী বালাসোরে অবস্থিত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাস্থলে স্ট্যান্ড-অফ অ্যান্টি ট্যাঙ্ক (সন্ত) মিসাইলের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করে ডিআরডিও।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক তরফে এও বলা হয়েছে, অ্যান্টি ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (এটিজিএম) “নাগ”, ২২ অক্টোবর ওয়ারহেড সমেত “নাগ” অ্যান্টি ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইলের (এটিজিএম) চূড়ান্ত ইউজার ট্রায়াল সফলভাবে সম্পন্ন করে ডিআরডিও। তৃতীয় প্রজন্মের এই ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয় রাজস্থানের পোখরানে। জাহাজ-বিধ্বংসী মিসাইল “উড়ান”, ২৩ অক্টোবর আরবসাগরে মোতায়েন ভারতীয় নৌসেনার মিসাইল করভেট শ্রেণির রণতরী “আইএনএস প্রবাল” থেকে জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র “উড়ান”-এর পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয়।