বাইক রিপেয়ারিংয়ের কাজ করে উচ্চমাধ্যমিকে ৯৪ শতাংশ নম্বর পেল মোয়ামারির আশরাফুল

ফেশ্যাবাড়ি: হাজারো প্রতিকূলতাকে কাটিয়ে উচ্চমাধ্যমিকে কলা বিভাগে ৯৪ শতাংশ নম্বর পেয়ে তাক লাগাল দিনমজুরের ছেলে আশরাফুল হাসান। সে কোচবিহার-১ ব্লকের মোয়ামারি গ্রাম পঞ্চায়েতের ময়নাগুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। অভাবকে জয় করে উচ্চমাধ্যমিকে সে ৪৭০ পেয়েছে। বাংলায় ৯৩, ইংরেজিতে ৮৭, এডুকেশনে ৯৭, ভূগোলে ৯৬, দর্শনে ৭৬ এবং ঐচ্ছিক বিষয় ইতিহাসে ৯৭ পেয়েছে। স্কুলের সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপক সে। প্রতিকূলতা কাটিয়ে তার এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত গোটা ময়নাগুড়িবাসী।

মোয়ামারির দিগলহাটি ময়নাগুড়ি গ্রামে তার বাড়ি। পড়ার খরচ চালানোর জন্য গ্যারেজে মোটর সাইকেল রিপেয়ারিংয়ের পাশাপাশি মাঠে দিনমজুরের কাজ করতে হয়েছে তাকে। মা-বাবা সহ দশ জনের সংসারে পড়ার খরচ চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাই পড়াশুনা, বই, খাতা ও টিউশনের খরচ চালাতে কখনও মাঠে দিনমজুরের কখনও বা গ্যারেজে মোটর সাইকেল রিপেয়ারিংয়ের কাজ করতে হয়েছে।

- Advertisement -

আশরাফুল বলে, সংসারের অবস্থা খুবই খারাপ। নিজের ইচ্ছাতে পড়াশুনা করছি। পড়ার খরচ চালাতে মাঠে ধান, পাট, শশা খেতে কাজ করেছি। স্থানীয় দিগলহাটি ময়নাগুড়ি চৌপথিতে গ্যারেজে কাজ করলেও পরীক্ষার আগে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিই। আশানুরূপ ফলাফল হয়েছে। ইতিহাস অনার্স নিয়ে কোচবিহার এবিএন সিল কলেজে পড়ে ভবিষ্যতে পুলিশ অফিসার হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে। অনার্সে পড়ার চাপ রয়েছে, খরচও বেশি। কোনও সহৃদয় ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসলে উপকৃত হতাম।

সে আরও বলে, উত্তরবঙ্গ সংবাদ-এর পড়াশোনা বিভাগ ভীষণ কাজে দিয়েছে। তবে ইচ্ছা থাকলেও কেনার সামর্থ্য ছিল না। প্রতিদিন বিকেলে বাজারে গিয়ে পড়তাম। বাবা পসিরুদ্দিন মিয়াঁ দিনমজুর। মা আছমি বিবি গৃহবধূ। তার সাফল্যে উচ্ছ্বসিত বিদ্যালয়ের শিক্ষক – শিক্ষিকা, অভিভাবক সহ এলাকাবাসী। আছমা বিবি বলেন, ছেলে ভালো রেজাল্ট করেছে। অনার্সে পড়ার খরচ বেশি। অভাবের সংসার, কীভাবে এত টাকা জোগাড় হবে বুঝতে পারছি না। এব্যাপারে কেউ এগিয়ে আসলে কৃতজ্ঞ থাকব।

ময়নাগুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, আশরাফুল বরাবরই ভালো ছাত্র ছিল। পরিবারের অবস্থা ভালো নয়। পড়াশুনা করে ভবিষ্যতে ওর স্বপ্ন পূরণ হোক, এই কামনা করি। এছাড়াও আশরাফুলের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।