করোনার জেরে বন্ধ শ্রাবণী মেলা, বিপুল আর্থিক ক্ষতি রেলের

ফাইল ছবি

রাজা বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে এবছর বৈদ্যনাথ ধামে শ্রাবণী মেলা হচ্ছে না। এর ফলে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে চলেছে পূর্ব রেলের আসানসোল ডিভিশন।

প্রতিবছর দেশের নানা প্রান্ত থেকে লাখো লাখো ভক্ত রেলপথে ট্রেনে শ্রাবণ মাসে শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে দেওঘর বা বৈদ্যনাথ ধামে আসেন। দেওঘর ও যশিডি স্টেশন আসানসোল রেল ডিভিশনের আওতার মধ্যে পড়ে।আসানসোল ডিভিশনের আধিকারিক চিত্তরঞ্জন ঝাঁ বলেন, গত বছর শ্রাবণী মেলার সময় শুধু একমাসেই ১১ কোটি টাকা আয় হয়েছিল। করোনা ভাইরাসের কারণে রাঁচি হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, এবার শ্রাবণ মাসে ভক্তরা আসতে পারবেন না বৈদ্যনাথ ধাম মন্দিরে। কিন্তু লকডাউনের জন্য মন্দির বন্ধ। ট্রেন চলাচলও বন্ধ রয়েছে। তাই কার্যত হতাশ সেইসব ভক্তরা।

- Advertisement -

রেল সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার ১৫ লক্ষ তীর্থযাত্রী যশিডি স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেন। শ্রাবণ মাসের প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৪ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হয়। দ্বাদশ জ্যোর্তিলিঙ্গ বাবা, বৈদ্যনাথ ও সতীপীঠ জয়দুর্গা মন্দির এখানে একসঙ্গে রয়েছে, ভূ-ভারতে আর কোথাও নেই। এখানেই শিব-শক্তিকে সামনে রেখে গড়ে উঠেছে ধর্মীয় পর্যটন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেওঘর বা বৈদ্যনাথ ধামে ভক্তরা আসে গোটা শ্রাবণ মাস জুড়ে। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ তীর্থযাত্রীর ভরসা রেলপথ।

শ্রাবণ মাসের জন্য আসানসোল রেলডিভিশন যে আয় করে, তা দিয়ে ঢেলে সাজানো হয় যশিডি ও দেওঘর স্টেশনকে। যাত্রী পরিষেবার কথা মাথায় রেখে নানা পরিকল্পনা নেয় আসানসোল ডিভিশন। নতুন করে সাজানো হয় ওয়েটিং রুমকে। শুধু যাত্রী পরিষেবা বা তাদের স্বাচ্ছন্দই নয়, যাতায়াতের সুবিধার জন্য শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে স্পেশাল বাড়তি ট্রেনও দেওয়া হয় আসানসোল থেকে।

আসানসোলের ডিআরএম সুমিত সরকার বলেন, শুধুমাত্র শ্রাবণ মাসের সোমবারগুলিতে যশিডি, দেওঘর ও বাসকিনাথ স্টেশন মিলে ৭০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। প্রতি সোমবার ৭০ লক্ষ টাকা করে আয় হয় ডিভিশনের। সেই শ্রাবণী মেলা হবে না। ট্রেন চলাচলও বন্ধ, তাই আয়ও বন্ধ। বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ল আসানসোল ডিভিশন।