নিয়োগে মোটা টাকার লেনদেন

662
ফাইল ছবি

বিশ্বজি৻ সরকার, রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিরাপত্তা ও সাফাইয়ের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি সংস্থার ঠিকাকর্মী নিয়োগে মোটা টাকার লেনদেন হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালী এক ব্যক্তি হাসপাতালের কর্মী না হয়ে রীতিমতো দাপটের সঙ্গে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। তাঁর অঙ্গুলিহেলনেই নিরাপত্তাকর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদে নিয়োগ করা হচ্ছে। এর জন্য অবশ্য মোটা টাকার লেনদেন হয়েছে বলে দাবি করেছে বিজেপি, কংগ্রেস এবং সিপিএম নেতত্ব। শাসকদলের অনুগামী হওয়ার কারণে ওই প্রভাবশালী ব্যক্তিকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ কর্তপক্ষ ঘাঁটাতে সাহস পায় না বলে দাবি বিরোধী দলগুলির। তৃণমূল নেতৃত্ব বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবে বলে জানিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে বাস্তুঘুঘুর বাসা গজিয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ। বেসরকারি একটি নিরাপত্তা সংস্থার জনৈক কর্মীর প্রভাব এতটাই বেশি যে তাঁর দাপটে বেসরকারি সংস্থার এক পদাধিকারীকেও সরে যেতে বাধ্য করা হয়। যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালিয়াগঞ্জে এসে এক সভায় বলেছিলেন, এইসব অনৈতিক কাজে জড়িতদের কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। কিন্তু সেসবের তোয়াক্কা না করে তিনি নিজেকে শাসকদলের শ্রমিক সংগঠনের স্বঘোষিত নেতা পরিচয় দিয়ে হাসপাতাল চত্বরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ।

- Advertisement -

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর এই অনৈতিক কাজকর্ম বন্ধ হওয়া তো দূরের কথা, হাসপাতালের সাফাইয়ের ও নিরাপত্তারক্ষীর দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা অনৈতিক কাজকর্মের সঙ্গে আপস না করায় তাঁকে তাঁর দায়িত্ব থেকে সরে যেতে কার্যত বাধ্য করা হয় বলেই কর্মীমহলের একাংশ জানিয়েছেন। যাঁরা এখানে কাজ করছেন তাঁদেরও অনেককেই বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা মেটাতে হয়। তাঁদের দৈনন্দিন রোজগারের একটা অংশ হাতিয়ে নিচ্ছে ওই প্রভাবশালী। তবে এর পেছনে যে জনপ্রতিনিধিদেরও একাংশের মদত রয়েছে বলে সরকারি ও বেসরকারি কর্মীদের একাংশের দাবি। কয়েক মাস আগে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের তৎকালীন সহকারী অধ্যক্ষ সুরজিৎকুমার মুখার্জিকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাঁকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়। ওই প্রশাসককে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ থেকে সরিয়ে নিয়ে গেলেও কঠোর কোনও পদক্ষেপ করার সাহস দেখাতে পারেনি কেউ। গুটিকয়েক প্রভাবশালীকে করে কম্মে খাওয়ার সুযোগ করে দিতেই রীতিমতো শাসকদলের মদত রয়েছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ।

বিজেপির জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ি বলেন, সম্প্রতি ওয়ার্ড বয় ও ওয়ার্ড গার্ল, সিকিউরিটি মিলিয়ে মোট পাঁচজনকে টাকার বিনিময়ে বেসরকারি সংস্থায় কাজ দেওয়া হয়েছে। কয়েক লক্ষ টাকার বিনিময়ে বেকার যুবক-যুবতীদের স্বাস্থ্য দপ্তরে স্থায়ী পদে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। শুধু ওই প্রভাবশালীই নয়, নিরাপত্তারক্ষীদের কণর্ধার বিকি সাহানির বিরুদ্ধেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে বিজেপির পক্ষ থেকে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষকে ডেপেুটশন দেওয়া হবে। রায়গঞ্জের বিধায়ক তথা কংগ্রেসের জেলা সভাপতি মোহিত সেনগুপ্ত  বলেন, হাসপাতালে বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী, ওয়ার্ড বয়, ওয়ার্ড গার্ল সহ অন্য পদে কর্মরত অস্থায়ী কর্মীদের লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে। প্রলোভন দেখানো হয়েছে স্থায়ী করে দেওয়ার। বেকার যুবক যুবতীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে।

সিপিএমের জেলা সম্পাদক অপূর্ব পাল বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই কর্মী নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম হয়ে আসছে। সম্প্রতি একাধিক ছেলেমেয়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে কাজে যোগ দেওয়ানো হয়েছে। এমনই অভিযোগ আমরা পেয়েছি। দলের তরফ থেকে আন্দোলনে নামা হবে। তৃণমূলের উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগারওয়াল বলেন, এমনটা হওয়ার কথা নয়। খোঁজ নিয়ে দেখছি। অন্যায় করলে কাউকে রেয়াত করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের মেডিকেল কলেজে এই ধরনের কর্মকাণ্ড হলে কিছুতেই দল বরদাস্ত করবে না। মেডিকেল কলেজের নোডাল অফিসার বিপ্লব হালদার বলেন, বেসরকারি সংস্থা আমাদের মেডিকেল কলেজে কাজ করে। আমাদের সঙ্গে এদের কোনও যোগ নেই। আমাকে অনেকেই মৌখিক অভিযোগ করেছেন। আমি তাঁদের বলেছি, থানায় অভিযোগ দায়ের করতে। এর সঙ্গে মেডিকেল কলেজের কোনও সম্পর্ক নেই।