মৃত তৃণমূল নেতার বাড়িতে বিনয়

488

ঘোকসাডাঙ্গা: মাথাভাঙ্গা ২ ব্লকের ছোট শিমুলগুড়ির ডাঙ্গাপাড়ায় মৃত তৃণমূল নেতা জাকির আলির বাড়িতে স্থানীয় নেতৃত্বকে সঙ্গে এলেন স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিনয় কৃষ্ণ বর্মন। শুক্রবার মন্ত্রী তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন ও সমবেদনা জানান। এদিন মৃত তৃণমূল নেতার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন মন্ত্রী বিনয় কৃষ্ণ বর্মন।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মাথাভাঙ্গা ২ ব্লকের ছোট শিমুলগুড়ি ডাঙাপাড়া এলাকার জনৈক জাকির আলী (৫১) রবিবার সন্ধ্যা ৭ থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তাঁর বাড়ি থেকে প্রায় ২০ কিমি দূরে বরিসের ডাঙা এলাকা থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার হয় জাকির আলী। তাকে প্রথমে ঘোকসাডাঙ্গা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ও পরে কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজে রেফার করা হয়। সেখানেই বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যু হয়।

- Advertisement -

অন্যদিকে, এলাকায় জাকির আলী তৃণমূল কংগ্রেসের লোকাল নেতা বলে পরিচিত। বাড়ি থেকে এত দূরে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রহস্য দানা বাদছে।

জাকির আলীর পুত্র মোহির আলম বলেন, ‘আমার বাবা নিয়মিত মদ্যপান করত কিন্তু প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরতেন। রবিবার বাবা বাড়ি না ফেরায় বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ খবর নিতে শুরু করি। পুন্ডিবাড়ি ফালাকাটা জাতীয় সড়কে হাসপাতাল মোড় পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হয় বাবা চটি জুতো। বাবা ও সাইকেল উদ্ধার হয় বারিসের ডাঙা এলাকা থেকে। বাবা তৃনমূলকর্মী আমাদের প্রশ্ন বাবা ও খানে কিভাবে এবং কেন ওখানে গেলেন। বাবার শরীরে আঘাতেরও চিহ্ন আছে বলে তাঁর অভিযোগ।‘

পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের লোকাল নেতার মৃত্যুতে আত্মীয়স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীরাও রহস্য দেখছে। এটা কি দুর্ঘটনা নাকি হত্যা। এ ব্যাপারে ঘোকসাডাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পুলিশ জানিয়েছে, ‘বরিশের ডাঙা এলাকা থেকে অচৈতন্য অবস্থায় সাইকেল সহ উদ্ধার হয় এক ব্যক্তি। অসুস্থ ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য পুলিশই হাসপাতালে ভর্তি করে এবং তাঁর পরিবারকে খবর দেয়। গোটা ঘটনা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ময়না তদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। তদন্তের স্বার্থে এর বেশি কিছু এখনই বলা সম্ভব নয়।‘

স্থানীয় তৃণমূল নেতা সহিদর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘জাকির আলি সেই এলাকার আমাদের একজন লোকাল নেতা ছিলেন। বাড়ি থেকে দূরে এভাবে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার ও মৃত্যু গোটা ঘটনা রহস্য দানা বাদছে। আমরা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলছি এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছি। গোটা ঘটনা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে কিনারা করা উচিত পুলিশের। এদিন মন্ত্রী বিনয় কৃষ্ণ বর্মন তার বাড়িতে আসেন। ওই পরিবারের পাশে আছেন। সবরকম সাহায্যের কথা বলেন তৃণমূল নেতৃত্ব।‘