শংসাপত্র সরবরাহ থমকে যাওয়ায় বিক্ষোভ কয়েকশ প্রতিবন্ধীর

410

রায়গঞ্জ: সাড়ে ছ’মাসের বেশী সময় ধরে প্রতিবন্ধীদের শংসাপত্র সরবরাহ প্রক্রিয়া থমকে রয়েছে উত্তর দিনাজপুরে। বুধবার  শংসাপত্রের দাবিতে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেপুটি সুপারের ঘরের সামনে বিক্ষোভ দেখাল জেলার কয়েকশ প্রতিবন্ধী। এদিন শংসাপত্রের আশায় বিভিন্ন এলাকার শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধীরা একত্রিত হয়ে ওই হাসপাতালের সুপারের দপ্তর ঘিরে তীব্র বিক্ষোভ দেখান। রাজ্য প্রতিবন্ধী সম্মিলনের উত্তর দিনাজপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক উত্তম গুহ বলেন, ‘দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে প্রতিবন্ধীদের শংসাপত্র দেওয়ার মেডিকেল বোর্ড বন্ধ।

২১ ধরণের প্রতিবন্ধী চিহ্নিত করার জন্য মেডিকেল বোর্ডে পাঁচজন ডাক্তার বসার কথা। কিন্তু কোভিডের আগে থেকে নিয়মিত মাসে দুই বার করে মেডিকেল বোর্ড বসছে না। ফলে সার্টিফিকেট নিতে এসে চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে প্রতিবন্ধীদের । অনেকবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। ফের ডিএম অফিসে ধর্না অবস্থান বিক্ষোভের মাধ্যমে প্রশাসনের সব কাজ বন্ধ করে দাবি আদায় করতে হবে।‘ শুধু তাই নয় রায়গঞ্জ শহরের শিলিগুড়ি মোড় এলাকার জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উত্তম বাবু। এদিন ডিপুটি সুপারকে না পেয়ে অবশেষে প্রতিবন্ধীরা মিছিল করে সহকারি অধ্যক্ষের দ্বারস্থ হন।

- Advertisement -

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে রায়গঞ্জ  মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে। সরকারি অধ্যক্ষের আশ্বাসে অবশেষে বিক্ষোভ প্রত্যাহার করেন শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধীরা। তবে এব্যাপারে রায়গঞ্জ মেডিকেল হাসপাতালের সহকারী অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, ‘অনেকদিন ধরে ডেপুটি সুপার ছুটিতে আছেন। তাই কিছু সমস্যা হচ্ছে। আশাকরি কয়েকদিন পর সব মিটে যাবে। উল্লেখ্য, কোভিড আবহের মধ্যেই শিলিগুড়ি মোড় এলাকার জাতীয় সড়ক বন্ধ করে আন্দোলনের সরব হয়েছিল জেলার প্রতিবন্ধীরা। দীর্ঘক্ষণ অবরোধের পর প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারী। কিন্তু তারপর দুই মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও কোনও সমাধান হয়নি।

এদিন রাজ্য প্রতিবন্ধী সম্মিলনের নেতৃত্বের সাফ কথা, আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিশ্বপ্রতিবন্ধী দিবসে কলকাতায় যাচ্ছি। সেখানে নজরুল মঞ্চের অনুষ্ঠানে আমাদের দাবি জানাব মুখ্যমন্ত্রীকে। তারপর জেলায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।‘ রায়গঞ্জ থানার ভুপালপুরের বাসিন্দা তাপস শীল বলেন, ‘দীর্ঘ তিন মাস যাবৎ প্রতিবন্ধী শংসাপত্র পাওয়ার জন্য রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঘুরছি। মেডিকেল বোর্ড ও ডেপুটি সুপার না থাকায় আমাদের চরম সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।‘ মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন প্রতিবন্ধীরা তিন ধরনের কাজ করতে এসেছিলেন। প্রথমটি কার্ড রিনুয়াল করা। দ্বিতীয়টি হল নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করা। তৃতীয় নম্বর মেডিকেল বোর্ডে বসে কত পার্সেন্ট প্রতিবন্ধী তা নির্ণয় করা। প্রায় তিন মাস ধরে যাবতীয় কাজ বন্ধ। সেই কারণেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রতিবন্ধীরা। যদিও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।