পণের টাকা না মেলায় স্ত্রীকে খুনের চেষ্টা, গ্রেপ্তার স্বামী

281

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: পণের টাকা না মেলায় নিজের স্ত্রীকে প্রথমে বিষ খাইয়ে এবং পরে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে খুনের চেষ্টা। অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। এদিন সন্ধ্যায় রায়গঞ্জ শহরের তুলসীতলা এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে যায় রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। পুলিশ অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সেলসম্যানের কাজে কর্মরত অভিযুক্ত সঞ্জয় পাল বছর তিনেক আগে রায়গঞ্জ থানার বোগ্রামের ছত্রপুর এলাকার বাসিন্দা সীমারানী ঘোষ(পাল)কে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় দু’লক্ষ টাকার পণ নিলেও বিয়ের ছয় মাসের মাথায় সীমারানী দেবীকে বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন স্বামী সঞ্জয় পাল। টাকা না পেলে প্রায়ই মারধর করা হত বলে অভিযোগ। তাই অনেক সময় চাপে পড়ে বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে বাধ্য হয়েছিল ওই বধূ। সম্প্রতি প্রায় এক লক্ষ টাকার জন্য সীমারানীদেবীর ওপর চাপ দেন ওই অভিযুক্ত। কিন্তু টাকা না পেয়ে বধুর ওপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার শুরু করে সঞ্জয় পাল।

বিকেলে বিষ মেশানো জল খাইয়ে খুন করার চেষ্টা করে। সেই জল না খাওয়ায় বাঁশ দিয়ে স্ত্রীকে বেধড়ক মারতে শুরু করে। ওই বধূর চিৎকার-চেঁচামেচিতে ছুটে আসে স্থানীয় বাসিন্দারা। বাঁশের আঘাতে ঘায়েল হন উত্তরবঙ্গ সংবাদের এজেন্ট পিন্টু মুখার্জি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে ছুটে যান রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। এরপর অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করে রায়গঞ্জ থানায় নিয়ে আসে। ওই গৃহবধূর মা মাধবী ঘোষ বলেন, বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। এদিন আমার মেয়েকে জলের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে জোর করে খাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু আমার মেয়ে প্রতিবাদ করায় বাঁশ দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। স্থানীয় বাসিন্দারা আমাদেরকে ফোন মারফত জানায় আমরা এসে দেখি আমার মেয়ে যখন অবস্থায় বাড়ির সামনে রাস্তায় পড়ে রয়েছে। আমি চাই অভিযুক্ত জামাইয়ের শাস্তি হোক। এই ঘটনার পর থেকে পলাতক অভিযুক্ত শাশুড়ি, দেওর। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তল্লাশি শুরু করেছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বাসটিকে। বর্তমানে ওই গৃহবধূ রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

- Advertisement -