বধূকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ, ধৃত স্বামী ও শাশুড়ি

325

বর্ধমান: বধূকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর থানার আশুরি গ্রামে। মৃতার নাম সুমিত্রা দালাল (৩৩)। আশুরি গ্রামেই তাঁর বাড়ি। ঘটনার খবর পেয়ে মন্তেশ্বর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বধূর মৃতদেহ উদ্ধার করে। বধূর বাবার বাড়ির লোকজনের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মৃতার স্বামী পবন দালাল ও শাশুড়ি শ্যামা দালালকে পাকড়াও করেছে। ধৃতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বধূর বাবার বাড়ির সদস্যরা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১২ বছর আগে মন্তেশ্বরের জামনা পঞ্চায়েতের আশুরি গ্রামের যুবক পবন দালালের সঙ্গে বিয়ে হয় কালনার নিরোলগাছির তরুণী সুমিত্রার। দম্পতির আট বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সুমিত্রার স্বামী পবন জয়পুরে কাজ করতেন। লকডাউন শুরু হলে তিনি কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরে আসেন। তারপর থেকেই তিনি স্ত্রীকে তাঁর বাবার বাড়ি, বোনের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দিতে থাকেন বলে অভিযোগ। স্বামীর চাপে পড়ে বেশ কয়েকবার বধূ বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনেন। তারপরও স্বামী বারবার বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য সুমিত্রাকে চাপ দিতে থাকেন। সুমিত্রা তা মেনে না নেওয়ায় অশান্তি তৈরি হয়। অভিযোগ, এদিন দুপুরে স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন সুমিত্রাকে কুপিয়ে খুন করেন।

- Advertisement -

মৃত বধূর দাদা প্রদ্যুত দাস বলেন, ‘ধূমধাম করেই আমরা বোনের বিয়ে দিই। শ্বশুর বাড়ির দাবি মতো ৬০ ভরি সোনার গয়না, নগদ দেড় লক্ষ টাকা সহ আসবাবপত্র সবই দেওয়া হয়েছিল। এদিন দুপুরে হঠাৎই বোনের শ্বশুরবাড়ির পাড়ার লোকেরা ফোন করে বোনকে খুনের কথা জানান। সেখানে গিয়ে জানতে পারি, জামাই পবন ও তাঁর মা শ্যামা মিলে সুমিত্রাকে কুপিয়ে মেরে ফেলেছেন।‘ প্রদ্যুৎবাবু জানান, তাঁরা পুলিশে খুনের অভিযোগ জানিয়েছেন।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ধ্রুব দাস এ বিষয়ে বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ স্বামী ও শাশুড়িকে পাকড়াও করেছে।’