স্বামী-স্ত্রী গ্যাংয়ের গাঁজা পাচার চক্রের পর্দা ফাঁস

63

ফাঁসিদেওয়া, ১৬ নভেম্বরঃ মঙ্গলবার গোপন খবরের ভিত্তিতে ফাঁসিদেওয়া পুলিশের বিশেষ অভিযানে ধৃত স্বামী-স্ত্রী গ্যাংয়ের গাঁজা পাচার চক্র। মোটরবাইকে করে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থেকে প্রায় ৮৫ কিলোমিটার দূরে শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়াতে অভিযুক্ত গাঁজা পাচারের ছক কষেছিল। এই ঘটনায় গাঁজা পাচারের নয়া মোড়ক উন্মোচন হল। ধৃত কালিকান্ত ঋষি (৩৮) এবং তাঁর স্ত্রী কাকলি ঋষি (৩৪) মেখলিগঞ্জ থানার ২ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিপাড়ার বাসিন্দা বলে পুলিশ জানা গিয়েছে। অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন থেকে এই কারবার করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে এনডিপিএস ধারায় মামলা রুজু করা হচ্ছে। বুধবার ধৃতদের শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, কালিকান্তকে ৭ দিন পুলিশি হেপাজতের আর্জি জানাবেন তদন্তকারী অফিসার। ডিএসপি (গ্রামীণ) অচিন্ত্য গুপ্ত বলেন, এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত কিনা তা নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা এদিন সন্ধ্যা নাগাদ ফাঁসিদেওয়া ব্লকের ঝমকলালজোত এলাকায় তিস্তা ক্যানাল ফল হাইড্রাল প্রজেক্টের কাছে পৌঁছাতেই পুলিশ সন্দেহের বশে মোটরবাইক আটক করে। মোটরবাইকে তল্লাশি চালাতেই সামনে থেকে বেশ কয়েকটি পলিথিনের প্যাকেটে প্রায় সাড়ে ৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়। এরপরই পুলিশ অভিযুক্তদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা গাঁজা পাচারের কথা স্বীকার করে নিয়েছে। এরপরই পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে। বিশেষ সূত্রের খবর, ধৃতরা রানীডাঙ্গা সংলগ্ন কালারামজোত এলাকায় পাচারের উদ্দেশ্যে গাঁজা নিয়ে এসেছিল। তবে, দুঃসাহসিক এই কায়দা পুলিশ আধিকারিকদের ভাবিয়ে তুলেছে। এরআগে কোথায় গাঁজা পাচার করা হয়েছিল তা নিয়েও তদন্ত করা হবে। এদিন উদ্ধার হওয়া গাঁজার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকারও বেশি বলে পুলিশ মনে করছে। পুলিশ পাচারে ব্যবহৃত মোটরবাইকটি বাজেয়াপ্ত করেছে।

- Advertisement -

অসমর্থিত সূত্রের খবর, কোচবিহার জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে একাধিক থানা পেরিয়ে এভাবেই ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে শিলিগুড়ি মহকুমার বিভিন্ন জায়গায় গাঁজা পৌঁছে যাচ্ছে। জাতীয় সড়ক সহ বিভিন্ন জায়গায় জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহার জেলা পুলিশের নাকা এবং রুটিন তল্লাশি পেরিয়ে, কোনওরকম বাধা ছাড়াই কীভাবে স্বামী-স্ত্রী মিলে এই গাঁজা প্রায় ৮৫ কিলোমিটার দূর থেকে ফাঁসিদেওয়া নিয়ে পৌঁছালো, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ধৃত স্বামী-স্ত্রী গ্যাং এর আগেও বেশ কয়েকবার গাঁজা পাচার করেছে। সেই থেকেই এই গ্যাং বিভিন্ন সময়ে কোচবিহার থেকে বিভিন্ন জায়গায় গাঁজা পাচারের কাজ করে চলছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও, পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। একইসঙ্গে, এই পাচারের ঘটনায় স্থানীয় কিংবা বাইরের কারও যোগ রয়েছে কিনা, তা নিয়েও পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনা এই কায়দায় আর কতগুলি গ্যাং কাজ করছে সেই তথ্য সামনে আনা কতটা সম্ভব হবে, তা সময়ই বলবে।