মেয়ে, স্ত্রী ও শ্যালিকাকে কোপানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বামী

296
ধৃত পরাণ বারুইকে আদালতে নিয়ে যাচ্ছে খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ।

বর্ধমান: ধারালো অস্ত্র দিয়ে ১০ মাসের শিশু, স্ত্রী ও শ্যালিকাকে কোপানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বামী। ধৃতের নাম পরাণ বারুই। শুক্রবার পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের ষাঁড় গ্রামের ঘটনা। গুরুতর জখম ১০ মাসের শিশু, স্ত্রী সুমিত্রা ও শ্যালিকা মালতি সাঁতরাকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যদিও, শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এদিকে এদিন অভিযুক্ত পরাণ বারুইকে বর্ধমান আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে খবর, খণ্ডঘোষের ষাঁড় গ্রামে বাড়ি পরাণ বারুইয়ের। পেশায় দিন মজুর পরাণ নেশায় আশক্ত হয়ে পড়েছিল। এই নিয়ে পরাণের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী সুমিত্রা বারুইয়ের অশান্তি শুরু হয়। রাগারাগি করে কয়েকদিন আগে সুমিত্রা তাঁর শিশুকে নিয়ে শ্বশুর বাড়ির পাশের পাড়া নিবাসী বোন মালতির বাড়িতে চলেযায়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, স্ত্রী চলে গেলেও মেয়েকে নিয়ে যাওয়া মেনে নিতে পারেন নি পরাণ। অভিযোগ শুক্রবার সন্ধ্যায় পরাণ ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর শ্যালিকার বাড়িতে পৌঁছায়। সেখানেই সেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশু ও স্ত্রীকে কোপানো শুরু করে। এমনটা দেখে ছুটে আসেন পরাণের শ্যালিকা মালতি। সেই সময় মালতির উপরও হামলা চালায় পরাণ। রক্তাত অবস্থায় তিন জনই চিৎকার শুরু করে। চিৎকার শুরু প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। তাঁরাই খণ্ডঘোষ থানায় খবর পাঠায়। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আক্রান্তদের উদ্ধার করে খণ্ডঘোষ ব্লক স্বাস্থকেন্দ্রে নিয়ে যায়। আঘাত গুরুতর থাকায় জখম তিনজনকেই রাতে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

- Advertisement -

এসডিপিও আমিনুল ইসলাম খান বলেন,“প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক অশান্তির কারণেই এই ঘটনা বলে জানাগিয়েছে। পরাণ বারুই তিনজনকে কাস্তে দিয়ে কুপিয়েছে। পরাণের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। খুনের চেষ্টায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার সহ এই হামলার প্রকৃত কারণ জানার জন্য তদন্তকারী অফিসার ধৃতকে আদালতে পেশকরে পাঁচ দিন পুলিশ হেপাজতে নিতে চেয়ে আবেদন জানান। বিচারক ধৃতকে পাঁচ দিন পুলিশি হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।