গৃহবধূকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বামী, পলাতক শ্বশুরবাড়ির লোকজন

321

রায়গঞ্জ: দাবি মতো পণের টাকা না মেলায় গৃহবধূকে ভারী বস্তু দিয়ে মাথা থেঁতলে ও শ্বাসরোধ করে খুন করার অভিযোগ উঠল স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সকালে রায়গঞ্জ থানার কর্ণজোড়া ফাঁড়ির শেরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মুকুন্দপুরে ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত স্বামীকে বেধড়ক মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ওই ঘটনার পর থেকে মৃত বধূর শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক।
প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্মাণ শ্রমিক যতন বৈশ্য হেমতাবাদ থানার নওদা গ্রামের মমতা বৈশ্যকে বছর চারেক আগে বিয়ে করে। বিয়ের সময় যৌতুক বাবদ নগদ ৮০ হাজার টাকা সহ অন্যান্য সামগ্রী নেয়। বিয়ের একবছর যেতে না যেতেই বাপেরবাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য সে মমতাকে চাপ দিত বলে অভিযোগ। টাকা না পেলে প্রায়ই মারধর করা হতো বলেও অভিযোগ। তাই অনেক সময় চাপে পড়ে মামা গদাধর বৈশ্য, মামি সুভাষিণী বৈশ্য টাকা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। সম্প্রতি প্রায় একলক্ষ টাকা বাপের বাড়ি থেকে মমতাকে আনার জন্য সে চাপ দিচ্ছিল বলে অভিযোগ। কিন্তু টাকা না পেয়ে বধূর ওপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার শুরু করে অভিযুক্ত।
স্থানীয়দের দাবি, এদিন সকালে স্ত্রীকে শিলনোড়া দিয়ে মাথা থেঁতলে ও শ্বাসরোধ করে খুন করে স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়েই বধূর মামার বাড়ির লোকজন তড়িঘড়ি মুকুন্দপুর গ্রামে ছুটে আসেন। বাড়িতে এসে দেখেন উঠোনের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে তাদের ভাগ্নি। শরীরের একাধিক জায়গায় ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। বধূর চিৎকার চেঁচামেচি শুনে পাড়ার লোকেরা অভিযুক্ত যতনকে ধরে ফেললেও বাকিরা পালিয়ে যায়।
মৃতার মামি সুভাষিণী বৈশ্যের অভিযোগ, ভাগ্নিকে মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করে মেরে ফেলেছে। ওর খুনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে জামাই ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। এদিন এই মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করার দাবিতে পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে গ্রামের বাসিন্দারা। এরপর পুলিশি আশ্বাসে বিক্ষোভ তুলে নেয়।
জেলা পরিষদের সদস্য তৃণমূলের পম্পা পাল বলেন, ‘এক গৃহবধূকে ভারী বস্তু দিয়ে মাথা থেঁতলে খুন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশকে বলা হয়েছে।’ এদিন বিকেলে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেয় রায়গঞ্জ থানার পুলিশ।