স্বামীকে খুন করার অপরাধে গ্রেপ্তার স্ত্রী ও প্রেমিক

655

বর্ধমান, ৬ মেঃ নিজের স্বামীকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ স্ত্রী এবং প্রেমিক গ্রেপ্তার হলেন। পূর্ব বর্ধমানের আউসগ্রাম থানার জামতারা গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশি তদন্তের তথ্য অনুযায়ী মৃতের স্ত্রী প্রীতি বাউরি এবং তার প্রেমিক মঙ্গল বাউরি মিলে পেশায় লটারি বিক্রেতা স্বামীকে খুন করেছেন। সেই মোতাবেক বুধবার আউসগ্রাম থানার পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে খুনের ধারায় মামলা রুজু করেছে। ধৃতদের এদিনই বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে চেয়ে তদন্তকারী

অফিসার দেবাশিষ নাগ ধৃতদের ৭ দিনের হেপাজতে নেওয়ার আবেদেন আদালতে জানান। ভারপ্রাপ্ত সিজেএম রঞ্জনী কাশ্যপ ধৃতদের ৬ দিন পুলিশ হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মৃতের বাবা নাড়ু বাউরি এবং মা কালি বাউরি অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে আমবাগান ঘেরা নিমতলা মাঠে মধুসুদনের গলার নলিকাটা দেহ উদ্ধার হয়েছিল।

- Advertisement -

পুলিশ সূত্রের খবর, বছর ৭ আগে মানকরের তরুণী প্রীতির সঙ্গে মধুসুদনের বিয়ে হয়। তাদের নবালক এক পুত্র ও কন্যা সন্তান রয়েছে। এলাকার অন্য এক পুরুষের সঙ্গে প্রীতির অবৈধ সম্পর্ক তৈরি হয়। এরপর থেকে মধুসুদন ও প্রীতির মধ্যে অশান্তি লেগে থাকত। সোমবার রাতে খাওয়া-দাওয়া করে স্ত্রীর সঙ্গে একই ঘরে মধুসুদন ঘুমােতে যায়। পরদিন ভোর ৩ টে নাগাদ হঠাৎই প্রীতি তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জানায়, তার স্বামীকে পাওয়া যাচ্ছেনা। সে শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে বলে গভীর রাতে বিছানা ছেড়ে তাঁর স্বামী কোথাও পালিয়েছে। কারো যাতে কোনও সন্দেহ না হয়, সেজন্য প্রীতি শ্বশুরবাড়ির অন্যান্যদের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় স্বামীর খোঁজ শুরু করে। এমনকি স্বামীকে কেউ খুন করতে পারে বলেও, প্রীতি শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জানায়। মৃতের পরিবারের লোকজনের কাছ থেকে এই সব কথা জানার পর, পুলিশ মঙ্গলবার প্রীতিকে থানায় ডেকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ চালায়।পুলিশি জেরায় প্রীতি স্বামীকে খুনের কথা স্বীকার করে নেয়।

পুলিশকে প্রীতি জানিয়েছে, কয়েকমাস আগে তার সঙ্গে এলাকার যুবক মঙ্গলের ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মধুসুদনকে ছেড়ে মঙ্গলের সঙ্গে সে সংসার করার পরিকল্পনা করেছিল। মধুসুদন সেই সম্পর্কে পথের কাঁটা হয়ে ওঠে। সেই কারণে মঙ্গলকে সঙ্গে নিয়ে সে, মধুসুদনকে প্রাণে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মাফিক সোমবার রাতে মঙ্গল তার বাড়িতে আসতেই, প্রীতি দরজা খুলে মঙ্গলকে ঘরে ঢুকিয়ে নেয়। তারপর ২ জনে মিলে মধুসুদনকে খুন করে বলে সে স্বীকার করেছে। জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনও আসেনি। তবে, জেরায় ধৃতরা খুনের কথা কবুল করেছে। সেই অনুযায়ী আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।