হাত-পা ভেঙে, মাথা থেঁতলে স্বামীকে খুন, নেপথ্যে স্ত্রীর পরকীয়া!

337

হরিশ্চন্দ্রপুর: হাত-পা ভেঙে, মাথা থেঁতলে স্বামীকে খুনের অভিযোগ উঠল স্ত্রীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুরে মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরের ডেইলি মার্কেট এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। মৃতের নাম রাম মুসোহর (৪৫), বাড়ি ডেইলি মার্কেট এলাকায়। অভিযোগ, স্ত্রী পঞ্চমী মুসোহর ও পিসতুতো দাদা মিলে রামকে নৃশংসভাবে খুন করেছেন। গভীর রাতে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ দেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ভাসুরের সঙ্গে পরকীয়া ও সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরেই এই খুন।

স্থানীয় সূত্রের খবর, নিয়মিত মদ্যপান করায় স্ত্রী পঞ্চমী মুসোহরের সঙ্গে প্রায়ই রামের অশান্তি হত। ছেলে বাপি মুসোহরের সঙ্গেও বিবাদ ছিল তাঁর। মূলত রঙ মিস্ত্রির কাজ করতেন রাম ও তাঁর ছেলে। কিন্তু এরইমধ্যে রামের পিসতুতো দাদা মনোজ মুসোহর দিল্লি থেকে হঠাৎ হরিশ্চন্দ্রপুরে এসে রং মিস্ত্রির কাজ শুরু করেন। তাঁর ব্যবসাও বেশ জমে ওঠে। পরবর্তীতে রাম ও পঞ্চমীদের সঙ্গে এক বাড়িতে থাকতে শুরু করেন মনোজ। এর জেরে পঞ্চমীর সঙ্গে ভাসুর মনোজের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যা নিয়ে পঞ্চমীর সঙ্গে রামের বিবাদ চরমে ওঠে।

- Advertisement -

প্রতিবেশীদের বক্তব্য, মদ্যপান বেড়ে গিয়েছিল রামের। কাজকর্ম কিছুই করতেন না। মূলত সংসার চালাতেন মনোজ। তাঁকে সাহায্য করতেন বাপি। সম্প্রতি বাড়ি বিক্রি করে অন্যত্র চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন পঞ্চমী ও মনোজ। আর সেখানে বাধা হয়ে দাঁড়ান রাম। এনিয়ে অশান্তি আরও তীব্র হয়। সেকারণে তাঁরা রামকে খুনের পরিকল্পনা করেন। মঙ্গলবার রাতে বাড়ির সিঁড়ির নীচ থেকে রামের হাত পা ভাঙা, মাথা থ্যাঁতলানো ও রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। দেহ লোপাটের জন্য একটি গাড়ির খোঁজ করছিলেন মনোজ। রামের ছেলে বাপিকেও একটি গাড়ি ভাড়া করে আনতে বলা হয়েছিল। তিনি গাড়ির খোঁজ করতে গেলে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। কয়েকজন তাঁদের বাড়িতে গিয়ে সিঁড়ির নীচে রামের দেহ দেখতে পান। এরপরই উত্তেজনা ছড়ায়। গভীর রাতে ঘটনাস্থলে আসে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধারের পাশাপাশি ঘর থেকে খুনে ব্যবহৃত শাবল সহ অন্য অস্ত্র উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, রামের হাত-পা ভেঙে মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করে তাঁকে খুন করা হয়েছে। শুধু তাই নয় মৃত্যু নিশ্চিত করতে শ্বাসরোধও করা হয়। মঙ্গলবার রাতেই পুলিশ পঞ্চমী ও তাঁর ভাসুর মনোজকে গ্রেপ্তার করেছে। মৃতের ছেলে বাপিকেও আটক করা হয়েছে। এলাকার আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।