মনজুর আলম, চোপড়া : পঞ্চায়েত সদস্যারা শুধু সই করছেন, বকলমে তাঁদের স্বামীরা সরকারি কাজ সামলাচ্ছেন। চোপড়া পঞ্চায়েত সমিতির একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতে এমনই অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি, চোপড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েকজন নির্বাচিত সদস্য এ ব্যাপারে প্রতিবাদও করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, বহিরাগতরা অনেক সময় সরকারি মিটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন। সরকারিভাবে মহিলা সদস্যদের বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দিয়ে লাভ হচ্ছে না। তালিকায় শুধু সাধারণ সদস্যরাই নয়, দুই-এক জায়গায় মহিলা উপপ্রধানদের ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ উঠেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রের কাজকর্মে নাক গলাচ্ছেন তাঁদের স্বামীরা। ফলে এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

পঞ্চায়েত সদস্য বা সদস্যা নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁদের প্রতিদিনই কিছু না কিছু কাজ সামলাতে হয়। এলাকাবাসীদের মধ্যে কেউ না কেউ প্রায় প্রতিদিনই রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট নিতে আসেন। এছাড়া, অনেকে বিভিন্ন ব্যাপারে দরখাস্ত লিখতে বা প্রকল্পের ব্যাপারে জানতেও আসেন। এসব কাজ মহিলা জনপ্রতিনিধিদের একাংশ হয় স্বামী অথবা অন্য কাউকে দিয়ে করাচ্ছেন বলে অভিযোগ। এক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষেরও তেমন আপত্তি নেই যেহেতু তাঁদের প্রয়োজনের সময় পরিসেবা জুটলেই যথেষ্ট। তবে এসব শুধু পঞ্চায়েত সদস্যারা ঘর-সংসার সামলানোর কারণে ব্যস্ত থাকার জন্য নয়। মহিলা জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে এমনও কেউ কেউ রয়েছেন যাঁরা নিজের নামটুকু সই করা ছাড়া আর কিছুই পারেন না। ফলে সমস্যা হওয়ারই কথা। মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ হওয়ার পর থেকে এই সমস্যা কিছুটা বেড়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় এখনও মহিলাদের মধ্যে শিক্ষার হার অনেকটাই কম। স্বামীরাই মহিলা জনপ্রতিনিধিদের বিভিন্ন কাজকর্ম সামলান। এমনকি সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিভিন্ন সালিশি সভাতেও নির্বাচিত মহিলা সদস্যাদের বদলে তাঁদের স্বামীরা অংশগ্রহণ করেন। অনেক সময় দরকারি কাজে ফোন করা হলেও তাঁরাই ফোন ধরেন। এছাড়া, ওই সদস্যাদের অনেকেই সরকারি গাইডলাইন বুঝে উঠতে না পারায় সব কাজ বকলমে স্বামীরাই করছেন বলে অভিযোগ। তবে বিভিন্ন সরকারি মিটিংয়ে বেশিরভাগ সময় তাঁদের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত হতে দেখে এ ব্যাপারে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে জল্পনা বেড়েছে।

চোপড়ার গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান করণ মারডি অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, সমস্যা রয়েছে। তবে ইদানীং বিষয়টি নিয়ে জল্পনা শুরু হওয়ায় এখন পঞ্চায়েত সদস্যাদের অনেকেই বিভিন্ন মিটিংয়ে আসতে শুরু করেছেন। চোপড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মহম্মদ আজহারউদ্দিন অবশ্য বলেন, এলাকায় বা বাড়িতে কে কতটা দায়িত্ব সহকারে কাজ করছেন সেটা তাঁদের ব্যাপার। সরকারি মিটিংয়ে নির্বাচিত সদস্যদের বাইরে কাউকেই প্রতিনিধি হিসেবে রাখা হচ্ছে না।