পরিবহণ শ্রমিকদের টিকাকরণ শিবিরে শিকেয় স্বাস্থ্যবিধি

98

গাজোল: পরিবহণ শ্রমিকদের জন্য বিশেষ টিকাকরণ শিবিরের আয়োজন করা হল গাজোলে। পরিবহণ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের উদ্যোগকে বাস্তবায়িত করতে শুক্রবার শুধুমাত্র ওই শ্রমিকদেরই টিকা দেওয়া হয়। এদিনের এই বিশেষ শিবির থেকে গাজোলের প্রায় ৪৫০ জন পরিবহণ শ্রমিককে টিকাকরণের আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সময়মতো টিকাকরণের প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় ভিড় বাড়তে থাকে। সেখানে শিকেয় ওঠে দূরত্ববিধি। যা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আইএনটিটিইউসির ব্লক সভাপতি অরবিন্দ ঘোষ এবং গাজোল ট্রেকার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খোকন দাস। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের তরফে শারীরিক দূরত্ববিধি মেনে চলার আবেদন জানানো হলেও তাতে কেউই তেমনভাবে সাড়া দেননি বলে অভিযোগ ওঠে।

এদিন গাজোল শংকরপুর কালিবাড়ি মোড় এলাকায় অস্থায়ী বাসস্ট্যান্ডে শুরু হয় টিকাকরণ প্রক্রিয়া। জেলা প্রশাসন থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, এদিন গাজোল ব্লকের সমস্ত পরিবহণ শ্রমিকদের প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ী সকাল থেকেই নির্দিষ্ট জায়গায় এসে ভিড় জমাতে শুরু করেন পরিবহণ শ্রমিকরা। টিকা রাখার জায়গা, তথ্য নথিভুক্তকরণ জন্য কম্পিউটারের ব্যবস্থা এবং টিকা প্রদানের জায়গা সমস্ত কিছু ঠিকঠাক করার পর দুপুর থেকে শুরু হয়ে যায় টিকাকরণের কাজ। লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন কয়েকশো শ্রমিক। উধাও হয়ে যায় শারীরিক দূরত্ববিধি।

- Advertisement -

আইএনটিটিইউসি ব্লক সভাপতি অরবিন্দ ঘোষ জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে পরিবহণ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম উদ্যোগ নেন সমস্ত পরিবহণ শ্রমিকদের বিনা পয়সায় টিকা দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে ঠিক করা হয়েছিল প্রথমে মালদা এবং চাঁচলে টিকা দেওয়া হবে। দাবি জানানো হয়েছিল, গাজোলেও একটি শিবির করা হোক। সেই অনুযায়ী এদিন গাজলের শিবির করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গাজোল ট্রেকার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খোকন দাস বলেন, ‘সরকারের তরফে টিকাকরণের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তাকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। পরিবহণ শ্রমিকেরাও কোভিড যোদ্ধা বলে আমরা মনে করি। তাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে পরিষেবা দিয়ে চলেছেন। পরিবহণ শ্রমিকদের টিকাকরণের কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হোক সেই আবেদন জানিয়েছিলাম। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী, পরিবহণমন্ত্রী যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা সত্যিই প্রশংসা যোগ্য। তাঁদের সেই উদ্যোগকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে এগিয়ে এসেছে জেলা প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য দপ্তর। সকলে যাতে কোভিডবিধি মেনে লাইনে দাঁড়ান তারই চেষ্টা করা হচ্ছে।’