সিইওকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠাল আইসিসি

দুবাই : হঠাৎ ছুটিতে পাঠানো হল আইসিসির সিইও মানু সাহানিকে। ছেঁটে ফেলার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবেই এই ভারতীয় কর্তাকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে বলে খবর। ২০২২ সাল পর্যন্ত মেয়াদ থাকলেও শীঘ্র পদত্যাগ করতে পারেন তিনি। বিশ্ব ক্রিকেটের বিগ থ্রি ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড বোর্ডের সঙ্গে সম্পর্ক এবং কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ইস্যুতে তাঁকে নিয়ে খুশি নয় আইসিসি।

আইসিসি সূত্রে খবর, প্রভাবশালী ক্রিকেট বোর্ডগুলির সঙ্গে সম্পর্করক্ষার ক্ষেত্রে মানুর ভূমিকায় সন্তুষ্ট নয় বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার ডিরেক্টররা। তার ওপর মানুর বিরুদ্ধে সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। প্রাইসওয়াটারহাউস কুপার্সের তদন্তের রিপোর্টে সেই অভিযোগ সত্যি বলে জানানো হয়। তদন্তের শুরু থেকেই তাঁকে অফিসে আসতে মানা করা হয়েছিল। রিপোর্ট দাখিলের পর মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে গিয়েছেন মানু। যদিও এই সময়ে কাজ চালিয়ে গিয়েছেন তিনি।

- Advertisement -

এ প্রসঙ্গে আইসিসির এক কর্তা বলেন, ওই তদন্তে একাধিক কর্মচারী মানুর বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ জানিয়েছেন। একটা সংগঠনের জন্য এমন পরিস্থিতি একেবারেই কাম্য নয়। আপাতত দুপক্ষই সম্মানজনক বিচ্ছেদের রাস্তা খুঁজছে। মানুর অধস্তন কর্মচারীদের বক্তব্য, তিনি কখনই কর্মীদের সুবিধা-অসুবিধার কথা বিবেচনা করেন না। একনায়কের মতো অফিস পরিচালনা করেন। অথচ আগের সিইও ডেভ রিচার্ডসন কর্মীদের প্রতি সহানুভতিশীল ছিলেন।

অবশ্য মানুর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ প্রথম নয়। ২০১৯ সালে আইসিসিতে যোগ দেন বছর ছাপ্পান্নর মানু। এর আগে সিঙ্গাপুরের একটি সংস্থায় কর্মরত থাকাকালীনও তাঁর বিরুদ্ধে কর্মীরা সরব হয়েছিলেন। গত নভেম্বরে নির্বাচনে জিতে গ্রেগ বার্কলে আইসিসির চেয়ারম্যান হওয়ার পরই মানুর দুঃসময় শুরু হয়। অন্তর্বর্তীকালীন চেয়ারম্যান ইমরান খোয়াজার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতাও বেশ কিছু ক্রিকেট বোর্ড ভালো চোখে দেখেনি।

সূত্রের খবর, মানুর কাজে অখুশি বিসিসিআইও। ভারতীয় বোর্ডের এক কর্তা বলেন, বছর দুয়েক ধরে প্রভাবশালী বোর্ডগুলির সঙ্গে মানুর সুসম্পর্ক ছিল না। বিশেষত শশাঙ্ক মনোহরের উত্তরসূরি নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁর নাক গলানোয় অনেকেই বিরক্ত হন। এরসঙ্গেই যোগ হয় কর্মীদের সঙ্গে দুবর্যবহার। সবমিলিয়ে তাঁর বিদায় মঞ্চ তৈরি হয়ে রয়েছে। ফলে পদত্যাগ না করলে তাঁকে বহিষ্কার করবেন আইসিসির ডিরেক্টররা।