তিন বছরেও চালু হয়নি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র

নয়ারহাট : মাথাভাঙ্গা-১ ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এখনও কিছু অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নিজস্ব ভবন নেই। কিন্তু ভিন্ন ছবি কুর্শামারি গ্রাম পঞ্চায়েতের বড় খলিসামারির সর্দারটারি এলাকায়। সেখানকার ৩২২/২১ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটির নিজস্ব ভবন তৈরি হওয়ার তিন বছর অতিক্রান্ত হলেও পঠনপাঠন শুরু করা হয়নি বলে অভিযোগ। পার্শ্ববর্তী একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘরে চলছে কেন্দ্রটি। এই নিয়ে ক্ষোভের পারদ চড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শীঘ্রই নতুন ভবনটি চালু করার দাবিও জোরালো হয়ে উঠেছে।

জানা গিয়েছে, কেন্দ্রটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি ঘরে চলছে। তাতে সমস্যাও রয়েছে। তাই উপভোক্তাদের স্বার্থে ২০১৬-১৭ আর্থিক বর্ষে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে সাড়ে আট লক্ষ টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রটির নিজস্ব ভবন তৈরি করা হয়। এতে খুশিও হয়েছিলেন স্থানীয়রা। কিন্তু নতুন ভবনটিতে পড়ুয়াদের পঠনপাঠন শুরু হয়নি। তৈরি হওয়ার পর এতদিন ভবনটি পড়ে থাকায় কল ও জল তোলার মোটর চুরি হয়ে গিয়েছে। শৌচাগারের দরজাও ভেঙে পড়েছে। সরকারি অর্থ জলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। মাঝে একবার নতুন ভবনটি চালু করার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তর উদ্যোগী হয়েছিল। নতুন ভবন উদ্বোধনের তারিখও স্থির হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে উদ্বোধন কর্মসূচি ভেস্তে গিয়েছিল। তারপরও কেটে গিয়েছে অনেকদিন। নতুন ভবনে পঠনপাঠন আর চালু হয়নি।

- Advertisement -

কিন্তু কী কারণে নয়া ভবনটি চালু করা যাচ্ছে না? খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, ভবনের কাজ নিম্নমানের হয়েছে। তাছাড়া ভবনটি চালু করার ব্যাপারে কেন্দ্রের জমিদাতার আপত্তিও রয়েছে। এও জানা গিয়েছে, জমির বিনিময়ে জমিদাতার পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন এলাকার শাসকদলের জনৈক নেতা। কিন্তু সেই আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় নতুন ভবনটি চালু করার ব্যাপারে বেঁকে বসেন জমিদাতা। যদিও এব্যাপারে শাসকদলের কোনও নেতার বক্তব্য মেলেনি। এদিকে, জমিদাতা মৃণাল মিয়াঁও সেই প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে বলেন, নতুন ভবন চালু করার ব্যাপারে আমার কোনও আপত্তি নেই। তবে ভবনের নির্মাণকাজ বাকি রয়েছে। জলেরও ব্যবস্থা নেই। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিককে অনুরোধ জানিয়েছি, নির্মাণকাজ শেষ করে এবং জলের ব্যবস্থা করে দ্রুত ভবনটি চালু করুন।

এব্যাপারে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য মজিবর রহমান মিয়াঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান হামিজা বিবি। অন্যদিকে ব্লকের সিডিপিও নীলরতন হালদার বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কেন্দ্রের নতুন ভবনটি চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।