কৌশিক দাস, ক্রান্তি : ক্রান্তির পার্কপাড়ার ৫৫৪ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের গত ১৪ বছর ধরে কোনো স্থায়ী ঘর নেই। আগে অন্য এক ব্যক্তির বাড়িতে কেন্দ্রটি চললেও পরে তাঁর আপত্তির কারণে সেখান থেকে পাততাড়ি গোটাতে হয়। দুবছর ধরে স্থানীয় মেঘলাল মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির বাড়ির উঠোনের গাছতলাতেই চলছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। পাশে রয়েছে নালা। সেখানে মশা এবং পোকামাকড়ের উত্পাত রয়েছে। কোনো উপায় না থাকায় উঠোনের নালার পাশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ৩৩ জন পড়ুয়া এবং পাঁচজন অন্তঃসত্ত্বাকে নিয়ে কোনোভাবে চলছে কেন্দ্রটি। একদিকে যখন সরকার শিক্ষাখাতে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করছে তখন অন্যদিকে ক্রান্তির পার্কপাড়ার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের এই দুর্দশায় অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ক্ষুব্ধ। এই বিষয়ে প্রশাসন এবং শিক্ষা দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেল, উঠোনে চটের বস্তার উপর বসা জনা ২০ খুদে শিশুকে পড়াতে ব্যস্ত কেন্দ্রের শিক্ষিকা সন্ধ্যা বণিক। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটির জন্য দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে কোনো ঘর বরাদ্দ করা হয়নি। আগে প্রতিবেশীদের বাড়িতেই কেন্দ্রটি চলত। তাঁরা আপত্তি জানানোয় কেন্দ্রটি চালানোর জন্য তিনবার জায়গা পরিবর্তন করতে হয়েছে। এরপর আর কোনো ঘর না মেলায় গত দুই বছর ধরে মেঘলালবাবুর বাড়ির উঠোনেই পঠনপাঠন চলছে। পাশেই ত্রিপল টাঙিয়ে শিশুদের রান্নাবান্না হচ্ছে।

অভিযোগ, বারবার প্রশাসনের কাছে দরবার করেও ঘর বরাদ্দ করা যায়নি। অভিভাবক নীপন সেন বলেন, কী অপরাধে আমাদের শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে। একটা সুস্থ পরিবেশে বসে পড়াশোনা করার অধিকারও কি আমাদের সন্তানদের নেই? অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কেন্দ্রটি চলছে অথচ স্থানীয় প্রশাসন এবং শিক্ষা দপ্তরের কোনো হুঁশ নেই।  আরও এক অভিভাবক মজা মহম্মদ বলেন, আমাদের সন্তানরা পড়াশোনার জন্য ন্যূনতম পরিবেশও পাচ্ছে না। কেন্দ্রটির জন্য কোনো স্থায়ী ঘর না থাকায় রোদ, বৃষ্টিতে নাকাল হতে হচ্ছে শিশুদের। একই বক্তব্য খুদে পড়ুয়াদের মা মুক্তা বণিক, সুপ্রিয়া সরকার, সোমা সরকারদের। কেন্দ্রের শিক্ষিকা সন্ধ্যা বণিক বলেন, স্থাযী ঘর না থাকায় গত ১৪ বছর ধরে এভাবেই কেন্দ্রটি চলছে। এভাবে পড়তে এবং পড়াতে দুই ক্ষেত্রেই ভীষণ সমস্যা হচ্ছে। যেভাবে কেন্দ্রটি চলছে তা পঠনপাঠনের উপযুক্ত পরিবেশ নয়। আমরা বহুবার বিষয়টি  ঊর্ধ্বতন মহলে জানিয়েছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। গতবছর অভিভাবকদের স্বাক্ষর নিয়ে প্রধানকেও সমস্যাটি জানিয়েছিলাম। এব্যাপারে সুপারভাইজার সেরাফিনা এক্কার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য মেলেনি। ক্রান্তি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বসুন্ধরা দাস বলেন, বিষয়টি আমরা জানি। কেন্দ্রটির জন্য যাতে নতুন ভবন তৈরি হয় সেজন্য আমরা ব্লক প্রশাসনকে জানিয়েছি। এব্যাপারে মালের বিডিও বিমানচন্দ্র দাস বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে দেখছি।