স্টেশনপাড়া ৪৮৮ নম্বর অঙ্গনওযাড়ি কেন্দ্রে খোলা আকাশের নীচে ক্লাস চলছে

278

লাটাগুড়ি : লাটাগুড়ি স্টেশনপাড়ার ৪৮৮ নম্বর অঙ্গনওযাড়ি কেন্দ্রে ১২ বছর ধরে কোনও ঘর নেই। ফলে লাটাগুড়ি রেলস্টেশন লাগোয়া এলাকায় রেলের জমিতে খোলা আকাশের নীচেই কেন্দ্রটি চলছে। বর্তমানে কেন্দ্রে পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় ৪০।  সরকার থেকে যখন শিক্ষাখাতে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করছে, তখন কেন্দ্রের এই অবস্থায় বিরক্ত অভিভাবক সহ এলাকার নাগরিকরা। মাল পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি মহুয়া গোপ বলেন, ‘নতুন ভবন নির্মাণের জন্য জমির খোঁজ চলছে। কোনও ব্যক্তি জমি দিলে নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা হবে।’

সম্প্রতি কেন্দ্রটিতে গিয়ে দেখা গেল, খোলা আকাশের নীচে চটের বস্তার উপর বসা ২০ জন শিশুকে পড়াচ্ছেন কেন্দ্রের দিদিমণি ঝর্ণা সিংহ। কেন্দ্রের সহায়িকা যোগমায়া ঘোষের বাড়িতে শিশুদের খাবার রান্নাবান্না হয়। কেন্দ্র সূত্রে খবর, চালুর দিন থেকেই তাঁদের জন্য কোনও ঘর বরাদ্দ হয়নি। তাই ১২ বছর ধরে এভাবেই চলছে। ঝর্ণাদেবী বলেন, ‘বৃষ্টির দিনে শিশুদের নিয়ে প্রতিবেশীর বারান্দায় বসতে হয়। তবুও জলের ছিটে শিশুদের গায়ে এসে পড়ে। অভিযোগ, বারবার প্রশাসনের কাছে দরবার করেও অঙ্গনওযাড়ি কেন্দ্রের জন্য ঘর মেলেনি।’

- Advertisement -

অভিভাবিকা শুক্লা বর্মন বলেন, ‘দিনের পর দিন ছোট ছোট ছেলেমেযো খোলা আকাশের নীচে বসে পড়াশোনা করছে। বর্ষার দিনে শিশুদের কেন্দ্রে পাঠানো যায় না।’ অপর অভিভাবক সুবোধ রায বলেন, ‘চূড়ান্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিশুদের থাকতে হচ্ছে। বিষয়টি খুবই হতাশার। প্রশাসনের কাছে ঘর নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।’ ঝর্ণাদেবী বলেন, ‘এভাবে ক্লাস করাতে আমাদের ভীষণ সমস্যা হয়। এটা পঠনপাঠনের উপযুক্ত পরিবেশও নয়। ২০০৮ সাল থেকে এভাবেই চলে আসছে। বিষয়টি আমি অনেকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।’ সুপারভাইজার সেরাফিনা এক্কা বলেন, ‘কিছুদিন আগেই আমি কেন্দ্রে গিয়ে বিষয়টি দেখে এসেছি। বর্তমানে যেখানে কেন্দ্রটি চলছে সেটি রেলের জাযগা। ফলে নতুন ভবন নির্মাণ করা সম্ভব নয়। কেন্দ্রের জন্য জমি খোঁজা হচ্ছে।’ মালের বিডিও বিমানচন্দ্র দাস বলেন, ‘অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র নির্মাণের জন্য কেউ জমি দিলে, সেখানে নতুন ভবন তৈরি করা হবে।’

ছবি- এভাবেই পড়াশোনা করে খুদেরা।

তথ্য ও ছবি- শুভদীপ শর্মা