বেহাল শৌচালয়, পানীয় জল নেই, ছাদ ভেঙে বৃষ্টিতে জল পড়ছে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে এসে ভুগছেন মা ও শিশুরা

418

দেওয়ানহাট : ১৯৯৪ সালে পুঁটিমারি ফুলেশ্বরী গ্রাম পঞ্চায়েতের খারিজা ফুলেশ্বরী গ্রামে ২৩৯ নম্বর অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্র চালু হয়। কোচবিহার ১ ব্লকের প্রত্যন্ত এলাকার এই অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রের বেহাল দশায় এখানকার শিশু,গর্ভবতী মহিলারা প্রবল সমস্যায় পড়ছেন।কেন্দ্র পরিচালনায় অসুবিধায় পড়ছেন একমাত্র কর্মী। পরিকাঠামো সংস্কার করে সমস্যা সমাধানের জন্য প্রশাসনিক মহলে একাধিকবার আবেদন জানিয়েও ফল মেলেনি বলে কর্তৃপক্ষের অভিযোগ।

বর্তমানে এলাকার শিশু ও গর্ভবতী মহিলা মিলিয়ে মোট ১১০ জন এই অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। কেন্দ্রের ঘরের টিনের চাল  জরাজীর্ণ। বৃষ্টি হলেই জল পড়ে ভেসে যায় ঘর। কেন্দ্রে আসা শিশু, গর্ভবতী মহিলারা ভিজতে থাকেন।পাশাপাশি ভিজে যায় রান্নার উপকরণ ও  জরুরি কাগজপত্র জলে নষ্ট হয়ে যায়। পানীয়জলের উৎস একমাত্র নলকূপটিও অকেজো। ফলে পাশের বাড়ির নলকূপের জল দিয়ে কোনোক্রমে প্রয়োজন মেটাতে হচ্ছে। কেন্দ্রের শৌচাগারের অবস্হাও তথৈবচ। সেটির ছাদ ভেঙে পড়েছে, অনেকদিন আগে সোক ট্যাংকটিও ভরে গিয়েছে। ফলে সেটি ব্যবহারের অযোগ্য। পরিকাঠামোগত এসব সমস্যার পাশাপাশি ১০ বছর যাবৎ এই কেন্দ্রের সহায়িকা পদ শূণ্য।  রান্না থেকে করে শিশুদের পড়ানো, অফিসিয়াল কাজকর্ম সমস্ত কিছু একা হাতে সামলাতে হচ্ছে এখানকার কর্মীকে।

- Advertisement -

এই অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রের কর্মী মমতা দাস বলেন, ‘পরিকাঠামোর বেহাল দশা এবং সহায়িকার অভাবে নিত্যদিনের কাজকর্ম পরিচালনায়  সমস্যা হচ্ছে। একাধিকবার  সমস্ত বিষয় প্রশাসনের নজরে এনেও কোনো ফল মেলেনি। সম্প্রতি ফের বিডিওকে আবেদন জানিয়েছি।’

অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারভাইজার নীলিমা ডাকুয়া সমস্যাগুলি মেনে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সমস্যা সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। দ্রুত সমস্যা মিটে যাবে বলে আমি আশাবাদী।’

কোচবিহার ১ নং ব্লকের বিডিও গঙ্গা ছেত্রী বলেন, ‘ওই অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রের তরফে আবেদন পেয়েছি।সমস্ত বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করব।’

ছবি-খারিজা ফুলেশ্বরী গ্রামে ২ অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রে ঘরের সিলিং ভেঙে পড়েছে।

তথ্য ও ছবি- তুষার দেব