৫০ বছরে দ্বিতীয় সর্বাধিক বরফ গলছে সুমেরু সাগরে

244

উদ্বেগ বাড়াচ্ছে উষ্ণতা। উষ্ণায়নের ফলে দ্রুত গলছে সুমেরু সাগরের বরফ। গত অর্ধশতাব্দীর নিরিখে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় মাত্র একবার ২০১২ সালে এর চেয়ে বেশি পরিমাণ বরফের গলন হয়েছিল মেরু প্রদেশে। উপগ্রহের তথ্য অনুসারে সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিখে এসে বরফের বিস্তৃতি দাঁড়িয়েছে ৩৭.৪০ লক্ষ বর্গকিলোমিটার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় তুষার ও বরফ তথ্যকেন্দ্রের (ন্যাশনাল স্নো অ্যান্ড আইস ডাটা সেন্টার, সংক্ষেপে এনএসডিসি) হিসেব বলছে, গত ৪০ বছরে এই নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বার বরফের বিস্তৃতি ৪০ লক্ষ বর্গ কিলোমিটারের নীচে নামল। কলরাডোর বোল্ডারের এক গবেষণাকেন্দ্রের হিমবাহবিদ টাওইলা মুন বলেন, ধারাবাহিকভাবে বরফের স্তর কমে যাওযা নিঃসন্দেহে বিধ্বংসী বিষয়। কিন্তু এটা দুর্ভাগ্যের য়ে এটা আর এখন বিস্ময়কর নয়।

এনএসডিসির মতে, এই বছর ৩১ অগাস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সাইবেরিয়ার উষ্ণ বাযুপ্রবাহের জন্যই বরফের এই দ্রুত গলন। এই ৬ দিনের বরফ গলনের হার অন্য যে কোনও বছরের বরফের গলনের হারের চেয়ে বেশি। বিজ্ঞানীদের অপর একটি দলের মতে, সাইবেরিযার এই তাপ-তরঙ্গ প্রবাহ মানুষের সচেতনতা ছাড়া ঠেকানো সম্ভব নয়। যদিও কারণ হিসেবে আরও একটা দিক উঠে আসছে। মেরু বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ টম ফোরম্যানের মতে, সুমেরু সাগরের বরফগুলি অদৃশ্য হয়ে যাওযার সঙ্গে সঙ্গে কালো জলের একটি ছোপ ফেলে যায়। এই জলের ছোপগুলি সূর্যের তাপ বিকিরণ না করে শোষণ করে। যার ফলে গত ৩০ বছর ধরে এই অঞ্চলের তাপমাত্রা পৃথিবীর অন্য অঞ্চলের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ গতিতে বেড়েছে। এর ফলে যে শুধুমাত্র সমুদ্রের বরফের স্তরের সংকোচন হচ্ছে তাই নয়, এর ফলে মেরু ভল্লুক, শীল মাছ, শ্যাওলা, প্ল্যাংটনের মতো জীবেরও অস্তিত্বও সংকটের মধ্যে পড়েছে।

- Advertisement -

গ্রীষ্মের শুরুতেও সমস্যা প্রায় একইরকম জটিল হয়ে ওঠে। সেই সময় উষ্ণায়নের ফলে সুমেরু সাগরের জল কানাডা এবং গ্রিনল্যান্ডে ছড়িয়ে থাকা বরফের চাদরগুলিকে গ্রাস করে। যার ফলে এই বরফের স্তরগুলি গলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পায়। মুনের মতে, সীমাবদ্ধ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পদক্ষেপ করার আগে গোটা বিশ্বের উচিত নয় আরও একটা নয়া রেকর্ডের সম্মুখীন হওয়ার অপেক্ষা করার। তিনি বলেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন কোনও রেকর্ডের মুখোমুখি না হতে হয় তাই আমাদের দূষিত গ্যাস নির্গমণ রুখতে আরও কঠোর পরিশ্রম করা উচিত।