দিনহাটায় অবহেলায় পড়ে প্রয়াত কমল গুহের মূর্তি

95

প্রসেনজিৎ সাহা, দিনহাটা : ভোট এলেই দিনহাটার সাধারণ মানুষের আজও যে নামটি মনে পড়ে, তা হল কমল গুহ। গত শতকে ফরওয়ার্ড ব্লকের জনপ্রিয় নেতা ছিলেন তিনি। মৃত্যুর এতদিন পরেও তিনি দিনহাটাবাসীর মনে বিরাজমান।  কিন্তু যে মানুষকে ঘিরে দিনহাটার আবেগ, তাঁর মূর্তিই অবহেলা ও অনাদরে পড়ে রয়েছে। তা পরিষ্কারে তাঁর নিজের দলের নেতা-কর্মীদের যেমন উদ্যোগ নেই, তেমনি স্থানীয় প্রশাসনেরও হেলদোল নেই। ফলে দিনহাটার কৃষিমেলার পরিত্যক্ত ডিআরএম কার্যালয়ের সামনে কমল গুহের আবক্ষ মূর্তি ধুলোর চাদরে ঢেকেছে। মূর্তির চারধারে আগাছা জন্মেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মূর্তির আশপাশে আলোর ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধ্যা হলেই নেশার আসর বসছে। এদিন মূর্তির কাছে গিয়ে দেখা গেল নেশার সামগ্রী বিক্ষিপ্তভাবে রয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ জন্মেছে।

দিনহাটা শহরের বাসিন্দা চন্দন সেনগুপ্ত বলেন, ভোট এলেই অনেকে প্রিয় নেতাকে সামনে রেখে প্রচারে নামেন। অথচ ভোট পেরোলে সেই নেতার মূর্তি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বটুকু তাঁরা পালন করেন না। এবারের ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী আবদুর রউফ বলেন, আমরা প্রতি বছর কমল গুহের জন্মদিন ও মৃত্যুদিনে ওই মূর্তির সামনে গিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করি। তবে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আমাদের নয়। ডিআরএমসি থাকাকালীন তারা মূর্তিটি স্থাপন করেছিলেন। যার কার্যালয় পরে কোচবিহারে চলে যায়। এরপর থেকেই তাদের স্থাপিত মূর্তিগুলি অবহেলায় পড়ে রয়েছে। এজন্য প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাবও দায়ী। কমল গুহ স্মৃতিরক্ষা কমিটির অন্যতম সদস্য গৌরীশংকর মাহেশ্বরী বলেন, কমল গুহ রাজনীতির ঊর্ধ্বে একজন ব্যক্তিত্ব। ভোট মিটে গেলে দলগতভাবে মূর্তিটি সংস্কার করা হবে। বিজেপি নেতা সুদেব কর্মকার বলেন, তৃণমূল-বামফ্রন্ট কোনওদিন দিনহাটার মানুষের আবেগ নিয়ে ভাবেনি। তাই এই অবস্থা। নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির সম্পাদক দেবাঞ্জন পালিত বলেন, আগামী অর্থবর্ষে ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা আছে। সে সময় মূর্তি সংস্কারের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হবে।

- Advertisement -