শিলিগুড়ি শহরে উপেক্ষিত বিদ্যাসাগরের মূর্তি 

368

ভাস্কর বাগচী, শিলিগুড়ি : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্ম ও মৃত্যুদিবসে তাঁর মূর্তিতে মাল্যদান করা নিয়ে প্রতি বছর রীতিমতো হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। ওই দিন দুটিতে শিলিগুড়ি পুরনিগমের তরফে অশোক ভট্টাচার্যরা যেমন সেখানে অনুষ্ঠান করেন তেমনি রাজ্যের শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের গৌতম দেব, রঞ্জন সরকাররাও ভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শিক্ষক, ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে দিনগুলি প্রতি বছর পালন করেন। কিন্তু অনুষ্ঠানের দিনগুলির পর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের খোঁজ কেউ রাখেন না। শিলিগুড়ি পুরনিগমের এই বিষয়ে প্রধান দায়িত্ব থাকলেও তারা এই বিষয়ে কোনও ভ্রূক্ষেপই করে না। তৃণমূল কংগ্রেস, এসজেডিএ কিংবা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মাধ্যমে কমপক্ষে বিদ্যাসাগরের মূর্তির ওপর একটি শেড দেওয়ার উদ্যোগ এতদিনেও হয়নি। সব মিলিয়ে বছরের দুদিন মালা, ফুল, কিংবা ধূপের সুবাস সেখানে মিললেও বাকি দিনগুলিতে শিলিগুড়ি কলেজপাড়া চিলড্রেন্স পার্কের ভিতর থাকা পাখির বিষ্ঠায় লাঞ্ছিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তির কেউ খেয়ালই রাখেন না।

২০০২ সালের ২৩ নভেম্বর শিলিগুড়ি পুরনিগমের উদ্যোগে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তির আবরণ উন্মোচন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার। অশোক ভট্টাচার্য তখন রাজ্যের পুরমন্ত্রী। প্রয়াত বিকাশ ঘোষ ছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র। এরপর বছর কয়েক আগে মূর্তির কাছে পৌঁছে মালা দেওয়ার জন্য সিঁড়িও বানানো হয়। যদিও সেই সময় সিঁড়ি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, শহরের বুকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তির এত অবহেলা কেন?  কাক, পক্ষীর বিষ্ঠায় গোটা মূর্তি ভরে রয়েছে। এর সঙ্গে গোটা এলাকারও একই পরিস্থিতি। তবে মূর্তি পরিষ্কার হবে বিদ্যাসাগরের জন্মদিনের ঠিক আগেই। তারপর জন্মদিনে তাঁর মূর্তিতে মাল্যদান করার জন্য ডান-বাম নেতাদের রীতিমতো হুড়োহুড়ি পড়ে যাবে। কে আগে মালা দেবেন তা নিয়ে চলবে প্রতিযোগিতা।

- Advertisement -

শহরের বিভিন্ন প্রকল্প খাতে কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও বিদ্যাসাগরের মূর্তির ওপর একটি শেড পর্যন্ত দেওয়ার কথা কেউ ভাবেনি। যদি শেড দেওয়া থাকত তবে মূর্তি অন্তত নোংরা হত না। কিন্তু না পুরনিগম, না  রাজ্য সরকারের কোনও দপ্তর, বিদ্যাসাগরের মূর্তির ওপর শেড তৈরিতে উদ্যোগী হয়নি কেউ। অথচ ওই শেড বানাতে বেশি অর্থের প্রয়োজনও নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও কেন বিদ্যাসাগরের মূর্তির ওপর শেড তৈরি করা গেল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শহরের মানুষ। শিলিগুড়ি পুরনিগমের বিরোধী দলনেতা রঞ্জন সরকার বলেন, আমরা তো করতেই পারি। কিন্তু আমাদের তো কোনও কাজই করতে দেওয়া হয় না। রাজ্য সরকারের অর্থ ওরা ঠিকভাবে খরচ করতে পারছে না। সামান্য অর্থ দিয়ে মনীষীদের মূর্তির ওপর শেড পর্যন্ত ওরা তৈরি করতে পারছে না। এটা লজ্জার। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য শংকর ঘোষ বলেন, মনীষীদের মূর্তির ওপর শেড লাগানোর কাজ শুরু হয়েছিল। কোনও কারণে এই প্রক্রিয়া চালু থাকেনি। আমি চেষ্টা করছি দ্রুত যাতে শেড লাগানো যায়। কারণ এই দায়িত্ব আমারও রয়েছে।