কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল জোট বাঁধলে দলটাই উঠে যাবে: অর্জুন সিং

119

হবিবপুর: একুশের ভোটে মালদা জেলায় নিজেদের গড়ে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের দিকে তোপ দাগলেন বিজেপি নেতা তথা ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং৷ বৃহস্পতিবার হবিবপুরের আইহোতে এক দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি৷

এদিন মূলত অর্জুন সিংয়ের নিশানায় ছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল যুবর রাজ্য সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এই দু’জনের বিরুদ্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে তাঁর গলায় উঠে আসে কুণাল ঘোষ, গুরুং সহ আরও অনেকের কথাও৷ বক্তব্য রাখতে গিয়ে এদিন তৃণমূলকে তুলোধনা করেন বিজেপির এই নেতা৷ তাঁর গলায় উঠে আসে কয়লা ও গোরু পাচারের তত্ত্ব৷ নিশানায় ছিলেন অভিষেক৷ তিনি বলেন, ‘শুভেন্দুকে বিশ্বাসঘাতক বলা হচ্ছে। অথচ দিদিমণি আগে এনডিএ-র সঙ্গে ঘর করেছেন। ২০১১ সালে কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। পরে কংগ্রেস ভাঙতে শুরু করলেন। দলটাকে প্রায় তুলে দিলেন। এবার কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল জোট করলে পুরো দলটাই ওঠে যাবে।’ পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘সারা দেশ তাকিয়ে আছে পশ্চিমবঙ্গের দিকে। গোটা রাজ্যের মতো মালদায়ও কোনও উন্নয়ন হয়নি। সরকার পরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি। মানুষ আগামী দিনে ভারতীয় জনতা পার্টিকেই ক্ষমতায় নিয়ে আসবে।’

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, বর্তমানে মালদা জেলায় যে দুটি বিধানসভা আসন বিজেপির দখলে রয়েছে তার একটি হল হবিবপুর৷ তাই দলীয় কর্মসূচিতে মালদায় এসে হবিবপুরকেই যোগদান কর্মসূচির প্ল্যাটফর্ম হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন ব্যারাকপুরের সাংসদ৷ তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের রাজ্য সহসভাপতি বিশ্বপ্রিয় রায়চৌধুরি, জেলা সভাপতি গোবিন্দচন্দ্র মণ্ডল সহ আরও অনেকে৷ এদিনের মঞ্চে বিভিন্ন দল থেকে বিজেপিতে যোগদান করেন বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী৷ তাঁদের হাতে গেরুয়া পতাকা তুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন আগেই হবিবপুরের লাল মাটির রং পালটে দিয়েছে পদ্ম শিবির৷ লোকসভা নির্বাচনে যেমন জয় পেয়েছেন দলীয় প্রার্থী খগেন মুর্মু, তেমনই এই আসনের বিধানসভা উপনির্বাচনে দলের জুয়েল মুর্মুকে জিতিয়ে এনেছেন গেরুয়া শিবিরের নেতা-কর্মীরা৷ আগামী নির্বাচনে এই আসন দখল করতে গেলে যে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে, তা মেনে নিতে দ্বিধা করে না জেলা তৃণমূল নেতৃত্বও৷ এই পরিস্থিতিতে এদিন এলাকায় উপস্থিত হয়ে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মনোবল যে অনেকটা বাড়িয়ে দিলেন অর্জুন সিং, তেমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷