সময় মতো কাজ করলে আজ দুয়ারে যেতে হত না, কর্মীসম্মেলনে তোপ ইশার

90

কালিয়াচক: দিন যতই এগিয়ে আসছে ভোটের উত্তাপ ততই বেড়েই চলেছে। আক্রমণ পালটা আক্রমণ শুরু হয়েছে সুজাপুর বিধানসভা কেন্দ্রে। এই কেন্দ্রে মূলত লড়াই হবে কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে। দুই দলেরই প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হয়েছে।  কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন গতবারের বিধায়ক ইশা খান চৌধুরী। পাশাপাশি সুজাপুর বিধানসভা কেন্দ্রের এবারের নতুন মুখ নিয়ে আসছে তৃণমূল। হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এবং সুজাপুরের ভূমিপুত্র আব্দুল গনিকে প্রার্থী করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে দুই প্রার্থীর ভোট প্রচার চলছে জোড় কদমে। রবিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত কংগ্রেস প্রার্থী ইশা খান চৌধুরী একটি কর্মী সম্মেলনে যোগ দেন। সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন বিদায়ী বিধায়ক ইশা খান চৌধুরী। রবিবার সিলামপুর ১ অঞ্চলের কর্মীসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় তালতলা পুরাতন ব্যাংক সংলগ্ন বিল্ডিংয়ে। এদিনের সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, দক্ষিণ মালদার সাংসদ আবু হাশেম খান চৌধুরী, সুজাপুরের বিধায়ক ইশা খান চৌধুরী, সিলামপুর ১ অঞ্চল সভাপতি মুসলিম আলি, জেলা পরিষদের প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান প্রমূখ।

সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইশা খান চৌধুরী বলেন, ‘১০ বছর কোন কাজ না করার ফলে, এখন তৃণমূল সুপ্রিমোকে মানুষের দুয়ারে যেতে হচ্ছে। আবার কখনো দিদিকে বলতে হচ্ছে। ১০ বছর ধরে তৃণমূল সরকার রয়েছে দুয়ারে সরকার তার আগে করল না কেন এখন দুয়ারে সরকার করে কি প্রমাণ করতে চাইছে। আবার দিদিকে বল কর্মসূচি পালন করছে তৃণমূল।এখন দিদিকে বলে কি লাভ হবে। দিদি তো কারুর কোন কথায় শোনেননি। এখন মানুষের কথা কি করে শুনবে। আমরা মনে করছি এই দিদিকে বল প্রোগ্রাম করেছেন এই জন্যই যে তাঁর নেতাকর্মীরা প্রচুর দুর্নীতি করেছে। দুর্নীতির কথাগুলো দিদিকে জানাবে। তার জন্যই দিদিকে বল কর্মসূচি নিয়েছেন।’

- Advertisement -

তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন,  ‘আমি শনিবার সুজাপুর এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করেছি। সেখানে মানুষ বলছে দিদিকে বলে কোন লাভ হচ্ছে না। ফোন করতে করতে হয়রান হয়ে গেলাম কিন্তু দিদির সঙ্গে কথা বলা হয়নি। ১০ বছর ধরে যদি কাজ করতেন মানুষের দরজায় দরজায় যেতেন তাহলে আজকে আর দুয়ারে সরকার করতে হতোনা তৃণমূলকে।’

বিধায়ক বলেন,  ‘তৃণমূলীরা প্রচার করছেন,  আমরা নাকি লকডাউনের সময় কোন কাজ করিনি। তৃণমূল কর্মীরা শুনে রাখুন,  সুজাপুর এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমি খাবার পৌঁছে দিয়েছি। আমার সুজাপুর কেন্দ্রের এবং মালদা জেলার শত শত শ্রমিক বাইরে আটকে গিয়েছিলেন। তাঁরা অনাহারে দিন কাটাচ্ছিলেন।আমরা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। সাংসদ ডালু বাবু বিভিন্ন রাজ্যের নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিযায়ী শ্রমিক দের খাবার পৌঁছে দিয়েছেন। আমরা যে সমস্ত শ্রমিক এর কাছে খাবার পৌঁছে দিয়েছিলাম এবং তাদের বাইরে থেকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসার বন্দোবস্তর করেছিলাম। সমস্ত শ্রমিকরা নিজে থেকেই সোশ্যাল মিডিয়াতে ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। সেই ভিডিওগুলো আমাদের কাছে রয়েছে। প্রচুর শ্রমিককে আমরা বাইরে থেকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু আমরা সেটাকে প্রচার করিনি বলে অনেকে ভাবছে আমরা কিছুই কাজ করিনি। বিধায়কটাই এলাকার উন্নয়নের জন্য মাত্র ৬০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। অথচ অন্যান্য রাজ্যে দুই কোটি তিন কোটি করে বরাদ্দ করা হয় বিধায়কদের জন্য। এই ৬০ লক্ষ টাকা আমরা যথাসম্ভব প্রত্যেকটি অঞ্চলে ভাগ করে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করার চেষ্টা করেছি। শ্মশান, কবরস্থান বাউন্ডারি ওয়াল করে দেয়া হয়েছে। এনটিপিসি থেকে সাড়ে ৬ কোটি টাকার বরাদ্দ মসজিদ মাদ্রাসা ক্লাবের নিচু জমিগুলো ভরাট করা হচ্ছে। আগামীদিনে আরও উন্নয়ন হবে।’

এদিন সাংসদ ডালুবাবু বলেন, ‘কংগ্রেস একটি গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ দল। কংগ্রেস কোনদিন জাতপাতের রাজনীতি করেনি। কিন্তু বিজেপি সরকার জাতপাতের রাজনীতি করে দেশটাকে ছারখার করে দিতে চাইছে। তাই সকলকে সাবধান হতে হবে একটি ভোটও অন্য জায়গাতে দেওয়া মানেই বিজেপির হাতকে শক্ত করা। কারণ আপনারা দেখতে পাচ্ছেন তৃণমূলীর আগেও বিজেপির হাত ধরে ছিল। পশ্চিম বাংলায় বিজেপির সবথেকে বাড়বাড়ন্ত হয়েছে তৃণমূলের রাজত্বকালে। তাই তৃণমূলকে ভোট দেওয়া মানে বিজেপির হাত শক্ত করা। সকলকে সচেতন হতে হবে এবং কংগ্রেস কে আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। তৃণমূলের ধমকানি চমকানিতে কেউ ভয় পাবেন না। বাম কংগ্রেস জোট করে আমরা লড়াই করছি। মালদায় আমরা যে যেরকম ভাবে কংগ্রেস ভালো ফল করেছিল এবারও সেই রকম ভাবেই কংগ্রেস ভালো ফল করবে।’