ওপারে বল গেলেই আউট, বাংলাদেশ সীমান্তে অভিনব ক্রিকেট

179

দীপেন রায়, মেখলিগঞ্জ : অলস বিকেলে জমে উঠেছে ক্রিকেট ম্যাচ। কিন্তু ব্যাট করতে হবে বুঝেশুনে। জোরে শট মারলেই আউট হওয়ার সম্ভাবনা। কারণ মাঠের বাউন্ডারি আদতে দুই দেশের সীমান্ত। তাই অন্য দেশের মাটিতে কোনওভাবে বল গেলেই ব্যাটসম্যান আউট। এভাবেই মেখলিগঞ্জের বাগডোকরা-ফুলকাডাবরি এলাকায় ক্রিকেটের নিয়ম নিজেদের মতো করে নিয়েছেন বাসিন্দারা। একবার যদি বল সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে চলে যায়, তবে সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর অনুমতি নিয়ে সেই বল ফেরত আনতে হয় খেলোয়াড়দের। তবে এসব নিয়ে নিয়ে তেমন ক্ষোভ নেই কারও। স্কুল-কলেজ বন্ধ। পরিযায়ী শ্রমিকদের অনেকেই কর্মস্থলে যেতে পারেননি। তাই প্রতিদিন খেলার মাঠে লোকসংখ্যা বাড়ছে।

বাগডোকরা-ফুলকাডাবরি সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশের আঙ্গারপোতা দহগ্রাম। এই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নেই। মেখলিগঞ্জ-ধাপড়া রাজ্য সড়কের বাগডোকরা মোড়ে রাস্তার পাশের জমিতে প্রতিদিন চলছে ক্রিকেট ম্যাচ। মাঠের একদিকে পাকা রাস্তা। বল ওই রাস্তা পেরোলেই চার বা ছক্কা হবে। কিন্তু রাস্তা পেরিয়ে ১০ মিটার গেলেই বাংলাদেশ সীমান্ত। সেখানে যদি বল কোনওভাবে পৌঁছে যায় তবে আউট। কেন এই অদ্ভুত নিয়ম?

- Advertisement -

এলাকার যুবক সৌরভ রায়, কৌশিক রায়, জয়দেব রায়রা জানান, বাংলাদেশের মাটিতে বল চলে গেলে বিএসএফকে জানিয়ে তবে বল আনতে হয়। তার জন্য খেলায় দেরি হয়। তাই বাংলাদেশে যাতে বল কম যায়, তার জন্য এই নিয়ম তৈরি করা হয়েছে। আরেক যুবক চঞ্চল রায়পাটোয়ারি বলেন, আমাদের এদিকে খেলার মাঠ নেই। চাষের জমিতে খেলতে হয়। কিন্তু আগের মতো এখন চাষের জমিও ফাঁকা থাকে না। সীমান্তেই কিছু ফাঁকা জমি রয়েছে, সেখানেই খেলতে হয়। অন্য সব নিয়ম এক হলেও, বাংলাদেশে বল গেলেই আউট।

বাংলাদেশের মাটিতে গিয়ে বল আনতে সমস্যা হয় না? এই প্রশ্নে আরেক বাসিন্দা বাপ্পা রায়পাটোয়ারি বলেন, নিয়ম চালু করার পরেও অনেক সময় বাংলাদেশে বল যায়। তখন সীমান্তে বিএসএফ জওয়ানদের কাছে অনুমতি নিয়ে বল আনতে হয়। তবে জওয়ানরা আমাদের সকলকে চেনেন। তাই তাঁরা বাধা দেন না।

এনিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএসএফ জওয়ান বলেন, আমরা সীমান্তে সবসময় পাহারায় থাকি। এলাকার ছেলেদের চিনি। তাই খেলার সময় বল বাংলাদেশে গেলে ফেরত আনার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে যাতে কম বল যায় সেটাও বলা হয় খেলোয়াড়দের।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও ক্রিকেট খেলা নিয়ে স্কুল পড়ুয়া অলোক রায়পাটোয়ারি বলেন, এমনি সময়ে খেলাধুলো হয় না। সবাই নানা কাজে ব্যস্ত। এখন স্কুল-কলেজ বন্ধ। যারা কাজ করে, তারাও বাড়িতে। তাই সময় কাটাতে পাড়ার মধ্যেই খেলা হচ্ছে। অন্য গ্রামের কাউকে খেলায় নেওয়া হয় না।