বিড়ি না বাঁধলে জোটেনা বর, এমনই দস্তুর উত্তর দিনাজপুরের এই গ্রামে

187

রায়গঞ্জ: বিড়ি না বাঁধলে বর পাওয়া যাবে না। পড়াশোনার কোনও জায়গা নেই এখানে। এই মন্ত্রেই দীক্ষিত রায়গঞ্জের করণদিঘি রাসখোলা এলাকার মেয়েরা। স্কুলে গিয়ে পড়াশোনা করা এখানে অপরাধ। তাই ছোট থেকেই তাঁদের বিড়ি বাঁধা শেখানো হয় যাতে পরবর্তীতে তাঁরা বিবাহযোগ্যা হয়ে উঠতে পারে। বিড়ি বাঁধতে না পারায় বিয়ে হয়নি এমন মেয়েরও অভাব নেই রায়গঞ্জের ওই গ্রামে।

উচ্চমাধ্যমিক বা বিএ পাশ করলেও বিড়ি বাঁধতে পারাই মেয়েদের বিবাহযোগ্য হওয়ার অন্যতম শর্ত। গ্রামের নিয়মই যে যত বেশি বিড়ি বাঁধবে, তার তত ভালো পাত্রের সঙ্গে বিয়ে হবে। আর বিয়ের পর ঘরের কাজ সামলে বিড়ি বেঁধে পরিবারের অন্ন জোগান দেবেন নববধূ। এমনটাই চলে আসছে বছরের পর বছর প্রত্যন্ত এই গ্রামগুলিতে। সেখানে গেলেই দেখা যায় ছোট ছোট মেয়েরা মায়ের সঙ্গে বিড়ি বাঁধা শিখতে ব্যস্ত। এমনই এক বিড়ি শ্রমিক রাশেদা বেগমের কথায়, এখানকার মেয়েরা যত তাড়াতাড়ি বিড়ি বাঁধার কাজ শিখে ফেলবে তত মঙ্গল। এক হাজার বিড়ি বাধলে ১২০ টাকা পাওয়া যায় কেউ আবার ১৪০ টাকা পান।গরিবের সংসারে সেটা অনেক টাকা। মেঘডোল শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষিকা জানান, ছাত্রীরা স্কুলে আসলেও অধিকাংশ সময় বিড়ি বাঁধার কাজে নিযুক্ত থাকে। আর লকডাউনের পর থেকে স্কুল বন্ধ হওয়ায় তাঁরা এখন পুরোপুরিভাবে বিড়ি শ্রমিকের পরিণত হয়েছে।

- Advertisement -