জিতলে টাকা হারলে নেই! এভাবেই জীবন চলে দেওয়াল লিখন শিল্পীদের

116

মেখলিগঞ্জ: ভোটের ঢাকে কাঠি পড়তেই এক সময় ডাক পড়ত ওদের। ভোটের আগে দিন রাত এক করে সকল রাজনৈতিক দলের জন্য রঙ তুলি হাতে নিয়ে বেড়িয়ে পড়তো দেওয়াল লিখন করতে। যে দল ভোটে জেতে সেই দল পরে পাওনা গন্ডা মিটিয়ে দিলেও যে দল হারে তাদের কাছে অগ্রীম টাকা বাদে বাকি প্রাপ্য টাকা আর পাওয়া যায় না। ঠিক এমনটাই জানালেন কোচবিহার জেলার মহকুমা শহর মেখলিগঞ্জের দেওয়াল লিখনের সঙ্গে জড়িত শিল্পীরা। বর্তমান ডিজিটাল যুগে তেমন কাজ না থাকায় সমস্যার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। মেখলিগঞ্জ মহকুমা শহর হওয়ায় প্রায় সমস্ত রাজনৈতিক দলের সদর দপ্তরগুলো মেখলিগঞ্জে অবস্থিত। আগে ভোটের দামামা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই আগে শুরু হয়ে যেত দেওয়াল লিখনের কাজ। ফলে অনেকেই পেশা হিসাবে এই কাজকে বেছে নিয়েছিলেন। সময় বদলেছে। এখন ডিজিটাল যুগে দেওয়াল লিখন এর জায়গা নিয়েছে ফ্লেক্স, ফেস্টুন। ফলে পেটে টান পড়েছে মহকুমা শহর মেখলিগঞ্জের দেওয়াল লিখনের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের। তাদের অনেকেই জানান যে উক্ত কাজের ওপর ভিত্তি করেই তাদের সংসার প্রতিপালন করতে হয়। ডিজিটাল যুগে কাজ কমায় অর্থনৈতিক দিক থেকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাদের। কেউ কেউ জানান, যে শুধু মাত্র ভালোবাসার টানেই এই কাজে আটকে রয়েছেন।

মেখলিগঞ্জ পুরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রতু গুহ বলেন, ‘১৯৮০ সাল থেকে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত আমি। রেডিমেট ফ্লেক্স ব্যানারের যুগে দেওয়াল লিখনের পরিমাণ কমেছে। ভোটে হারলে রাজনৈতিক দলগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই টাকা দিতে চায় না।‘

- Advertisement -

মেখলিগঞ্জ পুরসভার বাসিন্দা তথা শিল্পী প্রদীপ কুমার রায় বলেন, ‘দীর্ঘ ২০ বছর ধরে আমি এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। এই পেশার ওপর ভিত্তি করেই ৬ সদস্যর সংসার চলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি আমি। গত বিধানসভা নির্বাচনে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার কাজ করেছি। বর্তমানে কম্পিটারাইজ ফ্লেক্স ব্যানার এর দাপটে কাজ হয় না বললেই চলে। ভোটে যে রাজনৈতিক দল জেতে তারা দেওয়াল লিখনের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করলেও যারা হারে তারা পরে আর টাকা দিতে চায় না। অগ্রিম টাকা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।’

মেখলিগঞ্জ পুরসভার বাসিন্দা তথা শিল্পী ডন আলি বলেন, ‘আমি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। যাদের এই পেশার ওপর ভিত্তি করেই সংসার চলে তারা অর্থনৈতিক দিক থেকে পিছিয়ে থাকবে। এখন মুষ্টিমেয় কিছু দেওয়াল লিখন হয়।’