বর্ষার জল নামতেই তোর্ষার বালি তুলতে সক্রিয় মাফিয়ারা

207

কোচবিহার : বর্ষায় তোর্ষা নদীর জল নামতেই ফের বালি মাফিয়ারা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বেশ কিছুদিন ধরে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বালি তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ। কোচবিহার-২ ব্লকের মধুপুরের হাঁসখাওয়া খেয়াঘাট সংলগ্ন রেলসেতু ঘেঁষে অবৈজ্ঞানিকভাবে বালি লুঠ চলছে। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের পাশাপাশি বাঁধের প্রবল ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকার বাসিন্দারা। অবৈধ বালি চুরি রুখতে কড়া পদক্ষেপ করতে প্রশাসনের কাছে আর্জি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মধুপুরের তোর্ষা নদী থেকে কাউকে বালি তোলার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে সাফ জানিয়েছে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস মিলেছে প্রশাসনের তরফে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর শুখা ও বর্ষার মরশুমে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকে বালি মাফিয়ারা। প্রতিবাদ করলেই তাদের শাসানির মুখে পড়তে হয়। তাই প্রকাশ্যে এ ব্যাপারে কেউ মুখ খোলার সাহস পান না। বেশ কিছুদিন ধরে একাধিক ট্র‌্যাক্টর ট্রলিতে করে শ্রমিকের মাধ্যমে বালি তুলে অন্যত্র পাচার করা হচ্ছে। চাহিদামতো কোচবিহার শহরতলি সহ বিভিন্ন প্রান্তে চড়া দামে বালির জোগান দেওয়া হয়। যার জেরে সরকারের মোটা অঙ্কের রাজস্বের ক্ষতি হচ্ছে। নদীবক্ষে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি রেলসেতু, বাঁধ, হাঁসখাওয়া পিকনিক স্পটের প্রবল ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয় এক কলেজ পড়ুয়ার কথায়, প্রকাশ্যে সবকিছু চললেও এ ব্যাপারে নির্বিকার স্থানীয় প্রশাসন। তাদের নাকের ডগায় সবকিছু চললেও এ ব্যাপারে তারা নিশ্চুপ বলে অভিযোগ। এলাকার এক প্রবীণ বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের মদতে পুরো কাজটি হয়। তাই এ ব্যাপারে প্রতিবাদ করলে হুমকির মুখে পড়তে হয় তাঁদের। এলাকার অন্য বাসিন্দারাও প্রশাসনিক পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন। যদিও এ ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের নেতারাও মুখ খুলতে চাননি।

- Advertisement -

ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর সূত্রে খবর, সরকার অনুমোদিত বালির বেড ছাড়া অন্য কোনও জায়গা থেকে বালি তোলা সম্পূর্ণ বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ব্যাপারে কোচবিহার-২ ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার (বিএলএলআরও) এমটি লেপচা বলেন, কোনও অভিযোগ পাইনি। মধুপুরের তোর্ষা নদী থেকে কাউকে বালি তোলার অনুমতি দেওয়া হয়নি। কেউ তুললে তা বেআইনি। প্রশাসনের তরফে মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।