ঠেলা আর দোকান বসিয়ে বর্ধমান রোডে চলছে তোলাবাজি

251

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : দোকান, ঠেলাগাড়ি বসিয়ে তোলাবাজিচক্র সক্রিয় হয়েছে বর্ধমান রোডে। এয়ারভিউ মোড় থেকে রেল ওভারব্রিজ পর্যন্ত রাস্তার ওই অংশের দু’ধারে সূর্য ওঠার সঙ্গেই নতুন নতুন দোকান, ঠেলাগাড়ি বসছে। টিনের ঘেরা দিয়ে রাতারাতি হোটেল তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করেই এই কারবার চলছে। প্রকাশ্যে, অপ্রকাশ্যে দোকানদারদের স্বীকারোক্তি, বসার ব্যবস্থা করে দিলে হপ্তা তো দিতে হবেই। তোলার মাপকাঠি বিচার হচ্ছে দখল করা জায়গার আয়তন হিসেবে। অভিযোগ, এই চক্রের পান্ডা রাস্তা সংলগ্ন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এক বিজেপি কর্মী। ওই ব্যক্তি অবশ্য তাঁদের সক্রিয় কর্মী নন বলেই দাবি করছেন স্থানীয় বিজেপি নেতত্ব। ওই চক্রের তোলাবাজি রাস্তার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পাশাপাশি ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অংশেও চলছে। ওই ওয়ার্ডটির কোঅর্ডিনেটর তথা বর্তমান প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান অশোক ভট্টাচার্য। তৃণমূলের জেলা সভাপতি রঞ্জন সরকার বলছেন,প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যানের ওয়ার্ডে এসব চললেও তিনি চুপ কেন? আসলে যাঁরা বাম করতেন, তাঁরাই এখন রাম হয়ে গিয়েছেন। রাতে ভাগবাঁটোয়ারা হচ্ছে। কোনও কিছু রেয়াত করা হবে না। প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে সব ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।অশোক ভট্টাচার্য বলছেন, এটা আইনশৃঙ্খলার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ-প্রশাসনের দেখার ব্যাপার। রঞ্জনবাবু তো মনে করেন যে তাঁর কথায় পুলিশ-প্রশাসন ওঠাবসা করে, তো তিনিই এ ব্যাপারটা দেখুন।

শহরজুড়ে বিভিন্ন রাস্তা এখন দখলদারদের দখলে চলে গিয়েছে। রাস্তা ক্রমশ সংকীর্ণ হচ্ছে। এয়ারভিউ মোড় থেকে রেল ওভারব্রিজ পর্যন্ত বর্ধমান রোডের দুধার জুড়ে এখন শুধু টিনের ঘেরা দিয়ে হোটেল, দোকানপাট ও ঠেলাগাড়ির দোকান তৈরি হয়েছে। এই হোটেল, দোকান, ঠেলাগাড়ি বসিয়ে তোলা আদায় করছে একটি চক্র। দিনপ্রতি হিসেবে নেওয়া হচ্ছে তোলা। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কথায়, এই তোলার মাপকাঠি ঠিক হচ্ছে দোকান, হোটেলের আয়তন হিসেবে। লটারির দোকানের ক্ষেত্রে মাপকাঠি বাঁধা রয়েছে প্রতিদিন ২০ টাকা হিসেবে। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু মানুষই এই চক্র তৈরি করেছে। এই চক্র থেকেই উঠে এসেছে ওই ওয়ার্ডেরই শেখর এক্কা নামে এক বিজেপি কর্মীর নাম। সম্প্রতি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঠেলাগাড়ি বসিয়েছেন মমতা মাহাতো। তিনি বলেন, শেখরই আমাকে এখানে এনে বসাল। টাকার বিষয়টি আলোচনা করে ঠিক হবে। ওই বিজেপি কর্মীর বক্তব্য, ওরা অনেকদিন ধরে আমাকে একটা জায়গা দেখে দিতে বলছিল। তাই বসালাম। কেউ এরকম বললে কোনও খালি জায়গা থাকলে দেখিয়ে দিই মাত্র। টাকা আর কী নেব? বিজেপির নেতা বিক্রমাদিত্য মণ্ডল বলেন, ওই ব্যক্তি আমাদের সক্রিয় সদস্য নন। সমর্থক হতে পারেন, তাই বলে বিজেপির নাম খারাপ করবেন, সেটা মানা হবে না।

- Advertisement -