ত্রিমোহিনীর সাতপুকুরে মদ-জুয়ার আসর

সঞ্জয় সরকার, দিনহাটা : দিনহাটা-২ ব্লকের বড়শাকদল গ্রাম পঞ্চায়েতের ত্রিমোহিনীর সাতপুকুর এলাকায় অবাধে অসামাজিক কাজকর্ম হচ্ছে বলে অভিযোগ। প্রশাসনের ঢিলেঢালা মনোভাব ও পুলিশের নজরদারির অভাবই এর জন্য দায়ী বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

দিনহাটা মহকুমার দিনহাটা-চৌধুরীহাট সংলগ্ন সাতপুকুর এলাকাটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য জনপ্রিয়। এই এলাকায় রয়েছে সাতটি পুকুর। এখানে একটি বিনোদন পার্ক ও পিকনিক স্পট গড়ে তোলার দাবি দীর্ঘদিনের। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রায় ৬ বছর আগে এখানে একটি পিকনিক স্পট গড়ে তোলার তোড়জোড় শুরু হয়। প্রশাসনিক কর্তারাও একাধিকবার এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন। একটি কংক্রিটের রাস্তা ও একাধিক পাকা বেঞ্চ তৈরি করা হয়। পুকুরগুলি সংস্কার করে মাছ চাষের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপর পার্ক ও পিকনিক স্পট তৈরির উদ্যোগে ভাটা পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা তথা কলেজ পড়ুয়া বিজয় বর্মন বলেন, পিকনিক স্পট তৈরি হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন হত। বহু মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি এলাকার পরিচিতিও বাড়ত। দ্রুত পিকনিক স্পট ও বিনোদন পার্ক তৈরি করা প্রয়োজন। এদিকে এলাকায় অসামাজিক কাজকর্ম বেড়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। তাঁরা জানিয়েছেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানে চলে মদ ও জুয়ার আসর। রাত বাড়তেই বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য বাড়ে। পর্যটকদের জন্য তৈরি করা বেঞ্চগুলিতে এখন মদ-জুয়ার আসর বসে। এলাকাটি ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেলেও গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না বলে অভিযোগ।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা দীপক পাল বলেন, পার্ক তৈরি হলে এলাকার উন্নতির সম্ভাবনা ছিল। পুকুরগুলিতে বোটিং, মাছ ধরার ব্যবস্থা, পানীয় জল, আলোর ব্যবস্থা করলে ভিড় হত। শিক্ষামূলক ভ্রমণ, পারিবারিক পিকনিকও সম্ভব হত। কিন্তু সেখানে অসামাজিক কাজের দৌরাত্ম্যে তাঁরা নাজেহাল। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় মহিলাদের উত্ত্যক্ত করা হয়। এলাকার একাংশ দখল করে ব্যবসা চলছে। আবর্জনা ও নেশার সামগ্রীর প্যাকেট ও বোতল যেখানে-সেখানে ফেলা হচ্ছে। বড়শাকদল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তাপস দাস বলেন, পার্ক ও পিকনিক স্পট তৈরির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পার্ক তৈরি হলে অনেকেই উপকৃত হবেন বলে তিনি মনে করেন। তবে সমাজবিরোধীদের আড্ডার বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এলাকায় একটি শ্মশান রয়েছে। শ্মশানযাত্রীদের একাংশ নেশা করেন। তবে বহিরাগতদের আনাগোনার বিষয়ে জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ আধিকারিক পিঙ্কি রায় বলেন, মদ, জুয়া সহ বিভিন্ন অসামাজিক কাজ রুখতে ব্লকজুড়ে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে পদক্ষেপ করা হবে।