ইসলামপুরে ব্যাঙের ছাতার মতো অবৈধ মদের ঠেক

অরুণ ঝা, ইসলামপুর : উৎসবের মরশুমে ইসলামপুর লিকার করিডর হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি ইসলামপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো অবৈধ মদের ঠেক গজিয়েছে। ইসলামপুর জেলা পুলিশের সদর কার্যালয় থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে মদের ঠেকের রমরমা হওয়ায় স্বভাবতই পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিহারে মদ নিষিদ্ধ হওয়ায় পুজোর মরশুমে আন্তঃরাজ্য লিকার মাফিয়াদের সক্রিয়তা এবং কোটি টাকার উপর বিনিয়োগ ইসলামপুরের বাসিন্দাদের রীতিমতো উদ্বেগে ফেলেছে। ইসলামপুরের পুলিশ সুপার শচীন মক্করের অবশ্য দাবি, স্থানীয় অবৈধ মদের ঠেক সহ মদ পাচারের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে পুলিশ ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে ফেলেছে।

ইসলামপুর শহর বিহার লাগোয়া হওয়ায় সেখানকার লিকার মাফিয়াদের এই এলাকায় সক্রিয়তা নতুন কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু বিহারে মদ নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই ইসলামপুর লিকার মাফিয়াদের অন্যতম ডেরায় পরিণত হয়েছে। প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকার মদ পাচারের টার্গেট নিয়ে প্রভাবশালী মাফিয়ারা মাঠে নেমেছে। ফলে এই মুহূর্তে আন্তঃরাজ্য মদ পাচারচক্রের অন্যতম স্বর্গরাজ্য ইসলামপুর। এই চক্রের একটি প্রভাবশালী অংশের দাবি, বিভিন্ন মহলে মোটা টাকার বখরার ভিত্তিতে তাদের এই কালা কারবার চালাতে হয়। বাংলা থেকে বিহারে মদ পাচার করতে পারলেই কারবারিরা ফাইল প্রতি দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ টাকা কামাচ্ছে। রাতারাতি বড়োলোক হওয়ার লোভে এলাকার যুবসমাজেরর একাংশ এই চক্রের হয়ে কাজ করছে।

- Advertisement -

এখানেই শেষ নয়। ইসলামপুর শহরের মাঝখান দিয়ে যাওয়া ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের দুপাশে মদের ঠেকের রমরমা। দেশি-বিদেশি সব ধরনের পসার সাজিয়ে অবৈধ মদের ঠেকগুলি চুটিয়ে ব্যবসা করছে। কলেজ মোড় থেকে শুরু করে পুলিশ সুপারের অফিস থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বের তিস্তা মোড়েও মদের ঠেকের রমরমা। দিনভরই এই ঠেকগুলি সক্রিয় থাকে। সন্ধ্যা নামার পর ঠেকগুলির জৌলুস আরও বাড়ে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে জাতীয় সড়কের দুপাশে বহু চায়ের দোকান ও হোটেলেও মদের কারবার রমরমিয়ে চলছে। এমনকি বেশ কিছু লজে মদের ঠেকের রমরমাও চোখে পড়ার মতো। ফুলের দোকানের আড়ালেও মদের কারবার চলছে। বেশ কিছু পানের দোকানে দেদারে গাঁজার বিক্রি চোখে পড়ার মতো।

ইসলামপুর জেলা পুলিশ ডালখোলা এলাকায় ইতিমধ্যেই লিকার মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন, ইসলামপুরে এমনটা সম্ভব হচ্ছে না কেন? কাদের প্রশ্রয়ে পুলিশের পদস্থ কর্তারা নীরব দর্শক সেজে বসে রয়েছেন? এমনও অভিযোগ, রাজনৈতিক দাদাদের একাংশের মদত থাকায় পুলিশ চাইলেও কিছু করে উঠতে পারছে না। ফলে দুর্গাপুজো সহ আগামী দুই মাস উৎসবের মরশুমে লিকার মাফিয়া ও মদ্যপদের নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইসলামপুরের পুলিশ সুপারের বক্তব্য, সম্প্রতি আমরা অবৈধ মদের কারবার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছি। লাগাতার স্পেশাল ড্রাইভ চালানো হবে। কাউকে রেয়াতের কোনো প্রশ্নই নেই। জাতীয় সড়কের দুপাশে মদের ঠেক চালানোর অভিযোগ খতিয়ে দেখে সেগুলির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করতে পুলিশ পিছপা হবে না। পুজোর মরশুমে নিয়মিতভাবে মদবিরোধী অভিযান চলবে।