ভোটের আগে শিলিগুড়ি শহরে অস্ত্র কারবারে শঙ্কিত শহরবাসী

245

রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি : নির্বাচনের আগে বিহার এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে চোরাপথে শিলিগুড়ি শহরে অস্ত্র ঢুকছে। এ নিয়ে রীতিমতো শঙ্কিত শহরবাসী। অভিযোগ, চোরাপথে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে অস্ত্র। সেই অস্ত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন অবৈধ কার্যকলাপ ঘটাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। মঙ্গলবার রাতে মাটিগাড়া থানা এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা অন্তত সে কথাই যেন বারবার প্রমাণ দিচ্ছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একে অপরকে দোষারোপ চাপাতেও কসুর করছে না দলগুলি। শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক কাজিয়া।

তবে শুধু এ ঘটনাই নয়, মাসতিনেক আগে জলপাই মোড় এলাকা থেকেও একজনকে গ্রেপ্তার করেছিল শিলিগুড়ি থানার পুলিশ। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ওই ব্যক্তির কাছেও পিস্তল পাওয়া গিয়েছিল। ভোটের আগে এবং নির্বাচনের সময় শহরে অশান্তি বাধাতেই অস্ত্রের জোগান চলছে বলে রাজনৈতিক দলগুলি মনে করছে। শহরে অস্ত্রের কারবার রুখতে পুলিশকে আরও সক্রিয় হতে হবে বলে মনে করছেন শহরবাসী। বিষয়টি নিয়ে ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (জোন ২) কূঁয়র ভূষণ সিং বলেন, পুলিশ সক্রিয়। তাই একসঙ্গে এত অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। প্রত্যেককে হেপাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

- Advertisement -

এদিকে, শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র মজুত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ড, ইস্টার্ন বাইপাস, ৩৬ ও ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড, নিউ জলপাইগুড়ি এলাকা, রাজাহাওলি, চম্পাসারি সহ একাধিক জায়গায় অবৈধ অস্ত্রের কারবার রয়েছে বলে অভিযোগ। গোপন সূত্রে খবর, দেশি পিস্তলের ক্ষেত্রে ৫ থেকে ২০ হাজার, আরও একটু উন্নত পিস্তলের জন্য ৫০ থেকে ১ লক্ষ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার রাতে মাটিগাড়া থানার পুলিশ যে দলটিকে গ্রেপ্তার করেছে তাদের থেকে সাতটি ৯ এমএম পিস্তল, ৯১ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ১৪টি ম্যাগজিন উদ্ধার হয়েছে। এই পিস্তলগুলি সব বরাতের ছিল বলে খবর। বিহার থেকে ওই দল শিলিগুড়িতে এসে তা হস্তান্তর করত। তবে হস্তান্তরের আগেই পুলিশের জালে ধরা পড়ে অভিযুক্তরা। এর থেকেই স্পষ্ট, কোনও বড় ধরনের অপরাধ সংগঠিত করার জন্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের বরাত দেওয়া হয়েছিল। বহিরাগতরা যে শিলিগুড়িতে এসে অসামাজিক কাজ করছে তা উত্তরবঙ্গ সংবাদ এর আগে তুলে ধরেছিল। ওইদিনের ঘটনা থেকে সেটি স্পষ্ট হল বলে রাজনৌতিক দলগুলি মনে করছে। এ নিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করতেও পিছপা হচ্ছে না রাজনৈতিক দলগুলি।

বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা কমিটির সভাপতি প্রবীণ আগরওয়ালের দাবি, তৃণমূলের মদতে দুষ্কৃতীরা অস্ত্রের বরাত দিচ্ছে। অপরদিকে, বামফ্রন্টের দার্জিলিং জেলার আহ্বায়ক জীবেশ সরকারের দাবি, বিজেপি এবং তৃণমূল যৌথভাবে নির্বাচনের আগে শহরে সন্ত্রাস তৈরি করতে এসব করছে। এর পালটা তৃণমূলের দার্জিলিং জেলার মুখপাত্র বেদব্রত দত্তর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মতামত দিচ্ছে দুই দল। শিলিগুড়ি চিকেন নেক। তাই পুলিশকে সজাগ থাকতে হয়। পুলিশ প্রশংসনীয় কাজ করেছে।