শিলিগুড়িতে রেলের জমিতে অবৈধ নির্মাণ চলছে

448

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : শহরে গত কয়েক মাসে রেলের জমিতে একাধিক বহুতল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। কোনো সময় দুর্গানগর, কোনো সময় আদর্শনগরে রেলের জমিতে দখলদারদের ঝুপড়ির আড়ালে বহুতল তোলার ঘটনা সামনে এসেছে। এবারে নতুন করে বিবেকানন্দ রোড সংলগ্ন রেলের জমিতে অবৈধ বহুতল নির্মাণ শুরু হয়েছে। নির্মীয়মাণ একটি বহুতলের সঙ্গে স্থানীয় বিজেপি নেতার নাম জড়িয়েছে। এদিকে,  রেলের  তরফে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হলেও শহরে রেলের জমিতে অবৈধভাবে বহুতল নির্মাণের প্রবণতা বন্ধ না হওয়ার পিছনে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলারদের ভূমিকা ও রেলের নিয়মিত নজরদারি নিযে প্রশ্ন উঠছে। যদিও স্থানীয় কাউন্সিলাররা রেল কর্তপক্ষের উপরই দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন। রেল কর্তৃপক্ষ অবশ্য নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ পেলেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে দাবি করেছে।

শিলিগুড়ি শহরে ১,৪,৭,৩৪ ও ৩৫ নম্বর সহ বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে রেলের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুপড়ি তৈরি করে বহু মানুষ বসবাস করছেন। গত কয়েক মাসে রেলের এইসব জমিতে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বহুতল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। গত মে মাসে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শনগরে রেলের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে থাকা কাঠের বাড়িগুলোর একাংশ ভেঙে বহুতল নির্মাণ শুরু হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর রেলের তরফে বাড়ির মালিকদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করার পাশাপাশি একটি বাড়ি ভাঙা হয়। তারপর জুলাই মাসেই ওই এলাকার উলটোদিকে দুর্গানগর এলাকায় নতুন করে বেশ কয়েকটি বাড়িতে অবৈধভাবে নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর রেলের তরফে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। তবে, এরপরও শহরে রেলের জমিতে বহুতল নির্মাণের প্রবণতা কমেনি। ওই এলাকা থেকে দুই কিলোমিটর দূরে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিবেকানন্দ রোড সংলগ্ন রেলের জমিতে নতুন করে বহুতল নির্মাণের জন্য কিছু জায়গায় লোহার রডের খাঁচা তৈরি শুরু হয়েছে।   অবৈধ নির্মাণগুলির একটির সঙ্গে স্থানীয় বিজেপি নেতা মহম্মদ নৌশাদের নাম জড়িয়েছে। প্রথমতলা ঢালাই করে দ্বিতীয় তলার জন্য লোহার খাঁচা  তৈরি করছেন তিনি। যদিও তাঁর বক্তব্য, নির্মাণের জন্য কারও থেকে কোনোরকম অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি জানা ছিল না।

- Advertisement -

৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অরিজিত্ দাস বলেন, ওয়ার্ড কাউন্সিলারদের দায় এড়ানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের সদস্যেরই রেলের জমিতে অবৈধ নির্মাণ করার পেছনে বোঝা যায় এর পিছনে রাজনৈতিক যোগ কতটা। রেলের তরফেও এবিষয়ে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে না। ধারাবাহিক অভিযান না করে শুধুমাত্র  কয়েকটি অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হলে শহরে রেলের জমিতে নির্মাণ কোনোদিনই বন্ধ করা যাবে না। এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলার চন্দ্রাণী মণ্ডল বলেন, রেলের জমিতে কোনো নির্মাণের অনুমতি দেওয়া বা তা বন্ধ করার কোনো ক্ষমতাই আমাদের নেই। তেমন কিছু দেখলে আমরা রেলকে জানিযে দিই। রেলের জমিতে অবৈধ নির্মাণের বিষযে ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলার পরিমল মিত্র বা ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলার পিন্টু ঘোষ একই সুরে বলেছেন, আমরা এ বিষয়ে ওই নির্মাতাদের সতর্ক করেছি। অবৈধ নির্মাণ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের তরফে দেখার কেউ নেই। রেলের এডিআরএম (এনজেপি) পার্থপ্রতিম রায় বলেন, পুরো বিষয়টি খতিযে দেখে আমাদের তরফে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।