শিলিগুড়ি : শিলিগুড়ি মহকুমাজুড়ে বেআইনি রক্তের কারবার চলছে বলে অভিযোগ উঠছে। বেসরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলিতেও টাকার বিনিময়ে রক্ত দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে শহরতলি এবং মহকুমার বিভিন্ন হাসপাতালে গজিয়ে ওঠা একটি চক্র এই কারবারে যুক্ত রয়েছে বলে খবর। ১৫০০-৩০০০ টাকা এমনকি তার বেশি টাকাতেও প্রতি ইউনিট রক্ত কিনছেন রোগীর আত্মীয়রা। অথচ সেই রক্ত বেশিরভাগ সময়ই সরকারি ব্লাড ব্যাংক থেকেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আঞ্চলিক ব্লাড ব্যাংক অধিকর্তা ডাঃ মৃদুময় দাস বলেন, মারাত্মক অভিযোগ। এসব যদি হয়ে থাকে তাহলে তথ্যপ্রমাণ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে ব্লাড ব্যাংক রয়েছে। এ ছাড়া শহরে আরও দুটি বেসরকারি হাসপাতালে ব্লাড ব্যাংক আছে। এই চারটি ব্লাড ব্যাংক ঘিরেই চক্রটি কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের খবর, এই চক্রে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের দালালরাই মূলত জড়িত রয়েছে। তাদেরই চক্রের লোকজন মহকুমার বিভিন্ন জায়গায় কাজ করছে। কোনো সরকারি হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে ভরতি রোগীদের রক্তের প্রয়োজন হলে খবর চলে আসে ওই চক্রের কাছে। তারা রীতিমতো রোগীর শয্যায় পৌঁছে যায়। রোগী এবং রোগীর আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করে রক্ত পৌঁছে দেওয়ার কথা বলছে। প্রথমে রক্তের গ্রুপ জেনে নিয়ে তারপর দরদাম শুরু করছে ওই চক্রের লোকজন। সবচেয়ে বেশি দাম দিতে হয় নেগেটিভ গ্রুপের রক্তের। এ ছাড়া পজিটিভ গ্রুপের মধ্যে ও গ্রুপের রক্তের দামও চড়া। সূত্রটি জানাচ্ছে, নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত ২০০০-৩০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে বিভিন্ন ব্লাড ব্যাংকের যোগাযোগ রয়েছে। কখনও ডোনার কার্ড দিয়ে কখনও নিজেরাই রক্তের বিনিময়ে রক্ত নিয়ে বিক্রি করছে। আবার কখনও টাকার বিনিময়ে ব্লাড ব্যাংক থেকে রক্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খড়িবাড়ি, নকশালবাড়ি এলাকার অনেকেই এই চক্রের কথা জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালে রোগীর চিকিত্সা করাতে গিয়ে এই চক্রের খপ্পরে পড়েছেন তাঁরা। রোগীর জীবন বাঁচাতে বাড়ির লোকজন বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে রক্ত কিনছেন। শিলিগুড়ি নার্সিংহোম ওনার্স অ্যাসোসিয়েনের সভাপতি ডাঃ পীযূষ রায় বলেন, এই চক্র বহুদিন ধরেই কাজ করছে। এই চক্র নিয়ে আমরাও বিরক্ত। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালেই একটা বড়ো চক্র রয়েছে। আমরা রোগীকল্যাণ সমিতির বৈঠকে বহুবার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি।

শিলিগুড়ি সূর্যনগর সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি গৌতম কর বলেন, এই চক্রটির ব্যাপারে অতীতে আমাদের কাছে খবর ছিল। আমরা সেইমতো স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে অভিযোগও জানিয়েছিলাম। তারপরে এই চক্রের কারবার কিছুটা বন্ধ হয়েছিল। আবার এমন শুরু হয়ে থাকলে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ করা উচিত। আমরা সারাবছর মানুষের জীবন বাঁচাতে বিভিন্ন সংস্থাকে নিয়ে রক্তদান শিবির করি। সেখানে বহু মানুষ স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। আর সেই রক্ত নিয়ে কেউ যদি বেআইনি কারবার করে থাকেন তাহলে তা বন্ধ হওয়া উচিত। দার্জিলিংয়ে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ প্রলয় আচার্য বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।