কালিয়াচকে ব্রাউন সুগারের কারবার 

সেনাউল হক, কালিয়াচক : ব্রাউন সুগার তৈরির কারখানার হদিস মিলল কালিয়াচকের মোজমপুরে। কালিয়াচক থানার পুলিশ খবর পেয়ে ওই কারখানায় হানা দেয়। সেখান থেকে ব্রাউন সুগার, নগদ টাকা এবং ব্রাউন সুগার তৈরির সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে কারখানার মালিক আমিরুল শেখকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কালিয়াচক থানার পুলিশ বৃহস্পতিবার মোজমপুরের ইমামজাগির গ্রামে অভিযান চালায়। গ্রামের বাসিন্দা আমিরুল শেখ ও তার ভাই সানিউল শেখের বাড়িতে পুলিশ হানা দেয়। পুলিশের জালে আমিরুল শেখ ধরা পড়লেও সেখানে থেকে তার ভাই সানিউল শেখ পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কয়েটি প্লাস্টিকের প্যাকেটে ২৫৫ গ্রাম ব্রাউন সুগার এবং ৩২০ গ্রাম ব্রাউন সুগার তৈরির কেমিক্যাল পাওয়া গেছে। ব্রাউন সুগার তৈরির পরে একটি সাদা কাপড় দিয়ে সেগুলি চেলে নেওয়া হত। সেই সাদা কাপড়টিও উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও মাদক প্যাকেটবন্দি করার জন্য বেশ কয়েটি প্লাস্টিকের পাউচও মেলে। বাড়িতেই মেলে নগদ এক লক্ষ ১০ হাজার টাকাও।

জানা গিয়েছে, দুই ভাই ব্রাউন সুগার তৈরি করে সেগুলি বিক্রি করত। কারবারিরা তাদের বাড়িতে গিয়ে নগদ টাকা দিয়ে কিনে খুচরা বাজারে বিক্রি করত। ফলে তাদের বাড়ি থেকে একটি টাকা গোনার মেশিন এবং একটি ওজন মেশিনও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কয়েক বছর আগে কালিয়াচক ও বৈষ্ণবনগরে প্রচুর পরিমাণ অবৈধ পোস্ত চাষ করা হত। সেখান থেকে পোস্ত ফলের রস বা আঠা সংগ্রহ করে তা দিয়ে তৈরি করা হত ব্রাউন সুগার।  বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় মধ্যে দিয়ে ব্রাউন সুগার তৈরি করা হত। প্রথমদিকে লোকাল তৈরি ব্রাউন সুগারের চাহিদা সেইরকমভাবে ছিল না। ফলে সস্তায় বিক্রি করতে হত। তারপর চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকে। কিন্তু প্রশাসন থেকে পোস্ত চাষ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয় এবং পুলিশ ধরপাকড়ও শুরু করে। পোস্ত চাষ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বেকায়দায় পড়ে যায় ব্রাউন সুগারের কারবারিরা।

- Advertisement -

ধৃত আমিরুল শেখ পুলিশের জেরায় স্বীকার করে, এলাকায় পোস্ত চাষ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে মণিপুর থেকে তারা আঠা সংগ্রহ করত। বেশ কয়েবার তারা মণিপুর থেকে আঠা সংগ্রহ করেছিল। সম্প্রতি তারা মুর্শিদাবাদের পলাশি থেকে আঠা সংগ্রহ করে ব্রাউন সুগার তৈরির কাজ চালাচ্ছিল। প্রথমদিকেই বিভিন্ন সূত্র থেকে গোয়েন্দা বিভাগ মোজমপুরে ব্রাউন সুগার তৈরির খবর জানতে পেরেছিল। কিন্তু কারবারিরা সতর্ক হয়ে যাওয়ায় তাদেরকে পুলিশ ধরতে পারছিল না। যদিও পুলিশি অভিযানের ফলে কালিয়াচক সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্রাউন সুগার সহ পাচারকারীরা ধরা পড়ছিল। কিন্তু মূল পান্ডারা অধরাই থেকে গিয়েছিল। কিন্তু এবার ব্রাউন সুগারের ব্যবসার মূল পান্ডাকে গ্রেফতার করে পুলিশ সাফল্য পেয়েছে।

কালিয়াচক থানার আইসি আশিস দাস বলেন, লোকাল ব্রাউন সুগার তৈরির মূল পান্ডা আমিরুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বাড়িতেই ব্রাউন সুগার তৈরি করা হত। ব্রাউন সুগার তৈরি করার জন্য বাড়ির রান্নাঘর ব্যবহার করা হত। রান্নাঘর থেকে ব্রাউন সুগার ও ব্রাউন সুগার তৈরির কেমিক্যাল পাওয়া গিয়েছে। কেমিক্যালের ওজন প্রায় ৩২০ গ্রাম। ১ লক্ষ ১০ হাজার নগদ টাকা ও বেশ কিছু সরঞ্জামও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আমিরুল ধরা পড়লেও তার ভাই সানিউল পালিয়ে গিয়েছে। তার খোঁজে পুলিশ তল্লাশি শুরু করেছে।