জলপাইগুড়িতে গুটখার কারবারের কৌশল বদল

সৌরভ দেব, জলপাইগুড়ি : কিছুদিন আগেও জলপাইগুড়ি শহরে বিভিন্ন দোকানের সামনে গুটখার প্যাকেট ঝুলতে দেখা যেত। এখন সেই জায়গাগুলো কার্যত ফাঁকা। কিছু জায়গায় দেখা মিলছে জোয়ান, মৌরি সহ বিভিন্ন ধরনের চকলেটের প্যাকেট। যা দেখে নাগরিকদের একাংশের প্রশ্ন, শহর থেকে কী রাতারাতি গুটখা উধাও হয়ে গেল? নাকি সরকারি নির্দেশিকার জেরে মানুষ দীর্ঘদিনের নেশা একদিনে ত্যাগ করল? যদিও বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে, সরকারি নির্দেশিকার জেরে শুধুমাত্র গুটখা বিক্রির কৌশল বদলেছে। নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আড়ালে আবডালে অবাধেই গুটখা বিক্রি চলছে।

সম্প্রতি রাজ্যে গুটখা বন্ধ করার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ উঠছে, নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার পরেও জলপাইগুড়ি শহরে স্থানীয় প্রশাসনের তরফে কোনো অভিযান বা ব্যবসায়ীদের গুটখার বিক্রি বন্ধের বিষয়ে সচেতন করা হয়নি। সচেতন ব্যবসায়ীদের একটা বড়ো অংশ নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার দিন থেকেই প্রকাশ্যে বিক্রির বিষয়ে সতর্ক হয়েছেন। অপরিচিত ক্রেতা দোকানে গিয়ে গুটখা চাইলে সহজে তাঁকে দেওয়া হচ্ছে না। অপরদিকে যাঁরা মুখচেনা ক্রেতা, তাঁদের অবশ্য কোনো সমস্যাই হচ্ছে না। এককথায় জলপাইগুড়ি শহরে বন্ধ হওয়া তো দূরের কখা, গুটখা বিক্রির পরিমাণও সেভাবে কমেনি। বরং ভোল বদলে শহরের বিভিন্ন অংশে রমরমিয়ে চলছে এই ব্যবসা।

- Advertisement -

জানা গিয়েছে, পুরোনো ক্রেতারা তাঁদের নির্দিষ্ট দোকানের সামনে গিয়ে হাজির হতেই দোকানদার বুঝে যাচ্ছেন। মুখে কিছু না বলে চুপিসারে ক্রেতার হাতে গুটখা এবং জরদার পাউচ তুলে দিচ্ছেন। অনেকসময় দোকানে ভিড় থাকলে ক্রেতা-বিক্রেতার চোখের ইশারায় গুটখা হাত বদল হচ্ছে। আবার ক্রেতারা জরদা সহ গুটখার প্যাকেটের নির্দিষ্ট মূল্য দিলেই ব্যবসায়ীরা বুঝে যাচ্ছেন ক্রেতা কোন ব্র‌্যান্ডের কত পরিমাণ গুটখা চাইছেন। অবশ্য অপরিচিত ক্রেতাদের জন্য অন্য ব্যবস্থা রয়েছে। এক্ষেত্রে দোকানে গিয়ে নির্দিষ্ট কোড বলতে হচ্ছে। তাতেই মিলছে নির্দিষ্ট সামগ্রী। তবে অভিযোগ উঠেছে, শহরের কিছু ব্যবসায়ী অপরিচিত ক্রেতাদের কাছ থেকে গুটখার জন্য অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে শহরের এক পান দোকানদার বলেন, আইন সকলকেই মানতে হবে। তবে হঠাৎ করে নির্দেশিকা জারি হয়েছে। ফলে আমাদের ঘরে অনেক স্টক রয়েছে। সেগুলি বিক্রি না হলে আমাদের আর্থিক ক্ষতি হবে। পুরোনো স্টক ফাঁকা করার জন্যই সাবধানে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে আমরা আর নতুন স্টক তুলছি না। অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রেতা বলেন, যখন পাওয়া যাবে না তখন নেশা ত্যাগ করতে বাধ্য হব। তবে যাঁরা এই গুটখা খান কেউই রাতারাতি ত্যাগ করতে পারবেন বলে মনে হয় না। যেহেতু আর পাওয়া যাবেই না, তাই আমি নিজেও খাওয়ার পরিমাণ আগের তুলনায় অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছি।

অপরদিকে, জলপাইগুড়ি শহরে যে বেআইনিভাবে গুটখা ঢুকছে তার প্রমাণ রবিবার সকালেই মিলেছে। এদিন পাহাড়পুর মোড় এলাকায় পুলিশি তল্লাশিতে টোটো বোঝাই গুটখা ধরা পড়ে। সেখানে বিভিন্ন ব্র‌্যান্ডের গুটখা ছিল। এই ঘটনায় টোটোচালককে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের দাবি, ময়নাগুড়ির থেকে এই বিপুল পরিমাণ গুটখা জলপাইগুড়ি শহরে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে মত জানার জন্য জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার অভিষেক মোদিকে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ করা হলেও তিনি জবাব দেননি। অন্যদিকে জলপাইগুড়িতে গুটখার বাড়বাড়ন্ত নিয়ে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জগন্নাথ সরকার বলেন, গুটখা রুখতে অভিযান করা নিয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই পরিকল্পনা অনুয়ায়ী অভিযানে নামা হবে।