জলসংকটের সুযোগ নিয়ে জলের অবৈধ ব্যবসার রমরমা

319

কৌশিক দাস, ক্রান্তি : দেদার বিক্রি হচ্ছে লেবেলবিহীন জলের জার। সেগুলিতে আইএসআই ছাপ নেই। গুণমান পরীক্ষারও বালাই নেই। এমনকি ট্যাপের জল জারে ভরে বিক্রি হচ্ছে। অনেকে আবার বাড়িতেই অবৈধ ওয়াটার প্ল্যান্ট বসিয়ে জলের ব্যবসা ফেঁদে বসেছেন। মাল ব্লকে পানীয় জলের সংকটের সুযোগে এভাবেই রমরমিয়ে চলছে পানীয় জলের কারবার। এ ধরনের জল খেয়ে পেটের অসুখ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা। প্রশাসনের চোখের সামনেই এই বেআইনি কাজ চললেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।

মাল ব্লকের বাসিন্দাদের অভিযোগ, বৈধ কাগজপত্র এবং সঠিক পরিকাঠামো ছাড়াই বিভিন্ন জায়গায় গজিয়ে উঠেছে ওয়াটার প্ল্যান্ট। ব্লকের লাটাগুড়ি, ক্রান্তি, রাজাডাঙ্গা, চাপাডাঙ্গা, চ্যাংমারি, কুমলাই, তেশিমলা সহ বিভিন্ন এলাকায় পানীয় জলের মারাত্মক সমস্যা রয়েছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের লাইন কিছু জায়গায় থাকলেও বেশিরভাগ এলাকার মানুষদের বড় ভরসা টিউবওয়েল বা কুযোর জল। টিউবওয়েলের জলে প্রচণ্ড আয়রন থাকায় সেই জল পানের অযোগ্য। ফলে বাসিন্দাদের জল কিনে খেতে হয় আর এই সুযোগটাই নিয়েছেন জল ব্যবসাযীরা। লেবেলবিহীন জারের জলের গুণমান পরীক্ষার কোনও বালাই নেই। মাল ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় দেখা গিয়েছে, ছোট পণ্যবাহী গাড়িতে করে বাড়িতে বাড়িতে জারভর্তি জল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। মূলত ২০ লিটারের এক-একটি জার ৩০-৩৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। বিয়েবাড়ি কিংবা অন্য কোনও অনুষ্ঠানে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে জারভর্তি জলের। শুধু গ্রামাঞ্চলেই নয়, শহরেও দেদার বিক্রি হচ্ছে এই জল।

- Advertisement -

এফএসএসআই-এর এক আধিকারিক জানান, জলের ব্যবসা করতে হলে সরকারি নিয়ম মানা আবশ্যক। আইএসআইয়ের হলমার্ক, জল পরীক্ষা করার ল্যাবরেটরি সহ একাধিক দপ্তরের ছাড়পত্র পেলেই তবে ব্যবসা করার অনুমোদন মেলে। অভিযোগ, সেসব কিছুর তোয়াক্কা না করেই দেদার ব্যবসা চলছে। ফলে সেই জল পান করা আদৌ স্বাস্থ্যসম্মত কি না প্রশ্ন থেকেই যায়। পদ্মশ্রী করিমুল হক বলেন, আমার গ্রামের জলের সমস্যা মেটাতে আমেরিকার এক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আমার বাড়িতে ফিল্টার বসানো হয়েছে। প্রতিদিন আশেপাশের একাধিক গ্রামের দু-তিন হাজার বাসিন্দা টোটো, ভ্যান, সাইকেলে করে একসপ্তাহের জল সংগ্রহ করে নিয়ে যান। জলের সমস্যা মেটাতে তিনি সরকারিভাবে এই ধরনের ওয়াটার প্ল্যান্ট নির্মাণের দাবি জানান। চ্যাংমারির এক গৃহবধূ সুনীতি রায় বলেন, নিয়ম মেনে জল বোতলজাত হচ্ছে কি না সেটা দেখার দায়িত্ব আমাদের নয়। অন্ততপক্ষে আমাদের এলাকার জলের থেকে কেনা জল অনেকগুণ ভালো। আমাদের গ্রামের পানীয় জলে আয়রনের মাত্রা এত বেশি যে, সেই জল খাওয়া মানে নির্ঘাত অসুখ ডেকে আনা। প্রশাসন তো বিশুদ্ধ জলই আমাদের দিতে পারছে না। তেশিমলার বাসিন্দা সুশীল রায় বলেন, আমরা দৈনন্দিন কাজকর্ম টিউবওয়েলের জলে করলেও এই জল খাবার উপযুক্ত নয়। বাধ্য হয়ে জল কিনে খাওয়া ছাড়া গতি নেই। তবে টাকা দিয়ে কেনা জল খেলেও যদি শরীরের ক্ষতি হয় তবে তো সমস্যার। প্রশাসন অবৈধ ওয়াটার প্ল্যান্টগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান করুক। ক্রান্তির উত্তর সারিপাকুড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক জামিউল রহমান বলেন, ঠিকঠাকভাবে জল বোতলজাত করা না হলে সেই জল পান করে জলবাহিত রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মালবাজার খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিক জিতু মণ্ডল বলেন, জলের ব্যবসা করতে গেলে বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। মাল ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় আমরা গিয়েছি এবং বেশ কিছু জল ব্যবসাযীদের সতর্কও করা হয়েছে। জলের ব্যবসার নিয়ম অনুসারে প্রযোজনীয় নথিপত্র জোগাড় করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামীতে ঊর্ধ্বতন মহলের নির্দেশ পেলে অভিযানে নামা হবে।