কেরোসিনে ডিজেল মিশিয়ে জ্বালানির যথেচ্ছ কারবার

209

নকশালবাড়ি ও খড়িবাড়ি : কেরোসিনের সঙ্গে সামান্য পরিমাণে ডিজেল ও বিশেষ একধরনের রাসায়নিক মেশালেই কেল্লা ফতে। এসব মিলিয়ে যা তৈরি হচ্ছে তা পেট্রোল ও ডিজেল হিসাবে বাজারে চালানো হচ্ছে। বাইক, ট্র‌্যাক্টরের মতো যানবাহনে এই জ্বালানি বহাল তবিয়তে ব্যবহারও হচ্ছে। এতে যানবাহনের ইঞ্জিনের বারোটা বাজলেও ভেজাল জ্বালানির কারবারিদের থোড়াই কেয়ার! বাজারে এই তেল বিক্রি করে তারা মোটা টাকা কামিয়ে নিচ্ছে। সূত্রের খবর, নকশালবাড়ি ও খড়িবাড়ি ব্লকের কেষ্টপুর, ভারত-নেপাল সীমান্তের পানিট্যাঙ্কি, বিহার সীমান্ত লাগোয়া দেবীগঞ্জ, পিডব্লিউডি মোড়ে এই ভেজাল জ্বালানির কারখানা চলছে। রেশনের কেরোসিন ব্যবহার করায় এই কারবারে তেমন খরচও নেই। বিলকুল আসল পেট্রোল ও ডিজেলের মতো দেখতে এই ভেজাল জ্বালানি নকশালবাড়ি, খড়িবাড়ি, পানিঘাটার মতো এলাকার পাশাপাশি বিহার, নেপালেও বিক্রি হচ্ছে। এলাকার কিছু পেট্রোল পাম্পেও ভেজাল ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। শনিবার গভীর রাতে খড়িবাড়ি থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে পানিট্যাঙ্কি থেকে ৫৫০ লিটার কেরোসিন তেল, নকল ডিজেল তৈরির এক বস্তা বিশেষ রাসায়নিক সহ উত্তম রায় নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতকে রবিবার শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাকে পাঁচদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন।

নর্থবেঙ্গল পেট্রোল ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বিকাশকুমার আগরওয়াল বলেন, উত্তরবঙ্গের মধ্যে মালদা ও সীমান্ত এলাকাগুলিতে ভেজাল পেট্রোল ও ডিজেলের কারবার চলছে। এই তেলে যানবাহন চালানোর জেরে সেগুলি খারাপ হচ্ছে। এই কারবারে কিছু পেট্রোল পাম্প জড়িত থাকায় সংগঠনভাবে তাদের সতর্ক করা হয়েছে। রেশন দোকানগুলিতে বেঁচে যাওয়া কেরোসিন তেল দিয়ে  এই কারবার চলছে। এতে রেশন ডিলারদের একাংশের যোগ রয়েছে। রেশনে কেরোসিন তেলের এই অবৈধ ব্যবহার নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং প্রতিটি জেলার জেলা শাসক, পুলিশ সুপারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দার্জিলিং জেলার খাদ্য ও সরবরাহ আধিকারিক শাশ্বত ধর দাস বলেন, আমরা এধরনের কোনও অভিযোগ পাইনি। তবে, এই কারবারে কোনও রেশন ডিলার যুক্ত থাকলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খড়িবাড়ি থানার ওসি সুমনকল্যাণ সরকার বলেন, নকল ডিজেল তৈরির ঘাঁটিতে অভিযান চালিয়ে ৫৫০ লিটার কেরোসিন ও এক বস্তা বিশেষ রাসায়নিক সহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের জন্য ধৃতকে হেপাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানোর পাশাপাশি এই ঘটনায় জড়িতদের ধরতে আমরা তল্লাশি শুরু করব।

- Advertisement -

সূত্রের খবর, নকশালবাড়ি, খড়িবাড়ির কিছু রেশন দোকান থেকে নকশালবাড়ির  কোটিয়াজোত এলাকায় কিছু লোকের বাড়িতে কেরোসিন জমা করা হয়। দিনের শেষে অন্ধকার নামলেই ড্রামে ওই কেরোসিন ভরে টোটোয় করে কিছু মহিলা পানিট্যাঙ্কিতে কিছু টিনের বাড়িতে নিয়ে যান। বেশ কয়েকদিন ধরে গ্রামের দিকে বহু যুবককে সাইকেলের পিছনে বড় জার বেঁধে কেরোসিন কিনতে দেখা গিয়েছে। টিনের বাড়িগুলিতে রাতভর ভেজাল জ্বালানি তৈরি করা হয়। কেরোসিনের সঙ্গে ডিজেল মেশালেও কেরোসিনের একটা উগ্র গন্ধ থাকেই। কেউ যাতে তা বুঝতে না পারে সেজন্য ভেজাল জ্বালানিতে বিশেষ রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয়। এই কারবারে যুক্ত এই মহিলার কথায়, যা লাভ হয় তার বেশিরভাগটাই রেশন ডিলারদের দিতে হয়। এভাবে তৈরি ভেজাল জ্বালানির প্রতি লিটারের  পিছনে ৪০-৪৫ টাকা খরচ হলেও তা বাজারে ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সম্প্রতি পেট্রোল পাম্পগুলিতে জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ার পর এলাকায় এই ভেজাল জ্বালানির চাহিদা বেড়ে গিয়েছিল।