পাঞ্জিপাড়াকে কেন্দ্র করে অবৈধ তেলের রমরমা কারবার

392

অরুণ ঝা ইসলামপুর : পাঞ্জিপাড়াকে কেন্দ্র করে ইসলামপুর মহকুমা সহ লাগোয়া বিহারের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে চোরাই পেট্রোল ও ডিজেলের কোটি কোটি টাকার অবৈধ কারবার চলছে। একটু নজর ফেরালেই দেখা যাবে সীমাঞ্চলের গ্রামীণ এলাকায় বোতলে ভরে পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। তাৎপAর্যপূর্ণ বিষয় হল, চোরাই পেট্রোল ও ডিজেলে আরও বেশি মুনাফার লোভে কারবারিরা কেরোসিন মিশিয়ে বিক্রি করছে। নর্থ বেঙ্গল পেট্রোল ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, সবাই সবকিছু জানে। তারাও এই অবৈধ কারবার নিয়ে অতিষ্ঠ। গোটা ঘটনায় সংগঠন তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপও দাবি করেছে। ইসলামপুর মহকুমা প্রশাসন গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি তদন্ত করে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

পাঞ্জিপাড়ার ইকরচালায় ট্যাংকার থেকে কাঁচা স্পিরিট বের করে জাল মদ তৈরির কারখানায় সরবরাহ করা হয়। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ সংবাদে এই মর্মে খবর প্রকাশিত হতেই বিভিন্ন মহল নড়েচড়ে বসে। অভিযোগ, এই ইকরচালাতেই পেট্রোল ও ডিজেল ট্যাংকার থেকে চুরি করে বের করার বড় চক্র সক্রিয়। আরও অভিযোগ, পুলিশের একাংশের মদতেই এই অপরাধচক্র দাপিয়ে চলছে। যদিও এই বিষয়ে ইসলামপুর জেলা পুলিশের কর্তা-ব্যক্তিরা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। উত্তরবঙ্গ সংবাদের অন্তর্তদন্তে জানা গিয়েছে, লিটার প্রতি ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা দামে চোরাই চক্র পেট্রোল ও ডিজেল খুচরো বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে। সেই ডিজেল ও পেট্রোল বোতলে ভরে গ্রামীণ এলাকায় ৯০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। বিশেষ করে ইসলামপুর মহকুমা এবং লাগোয়া বিহারের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই কারবারিদের রমরমা।

- Advertisement -

এই চক্রের ব্যাপারে ওয়াকিবহাল এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, সারা মাসে বিহার-বাংলা অর্থাৎ সীমাঞ্চল এলাকায় এই অবৈধ কারবারের পরিমাণ কয়ে কোটি টাকা। ওই ব্যক্তির কথায়, ইকরচালা হচ্ছে এই অপরাধের আঁতুড়। রাত নামতেই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ক্রিমিনালরা কাজে নেমে পড়ে। নির্ধারিত কিছু লাইন হোটেলের আড়ালে শুরু হয় পেট্রোল-ডিজেল চুরি করে বের করার কাজ। রীতিমতো মোটর লাগিয়ে ট্যাংকার থেকে জ্বালানি অত্যন্ত কম সময়ে নামিয়ে নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, পাঞ্জিপাড়ার মনঝক এবং লস্করগাঁ সংলগ্ন এলাকা সহ বিহারের কিশনগঞ্জ থেকে এই কারবারের মাস্টারমাইন্ডদের একাংশ সবটাই নিয়ন্ত্রণ করে। গোয়ালপোখর, চাকুলিয়া, ইসলামপুর, চোপড়া, ডালখোলা সহ ইসলামপুর মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় ইকরচালা থেকেই চোরাই পেট্রোল-ডিজেল সরবরাহ করা হয়। একইভাবে বিহারের কিশনগঞ্জ জেলার ঠাকুরগঞ্জ, পোঠিয়া, পাহারকাট্টা, বাহাদুরগঞ্জ পর্যন্ত এই চক্রটি চোরাই জ্বালানি সরবরাহ করে। অন্তর্তদন্তে চমকে দেওয়ার মতো যে তথ্য উঠে এসেছে তা হল, কাঁচা স্পিরিট অর্থাৎ লিকার মাফিয়াদের একাংশের টাকা দিয়ে এই তেল মাফিয়াগিরি রমরমিয়ে চলছে।

নর্থ বেঙ্গল পেট্রোল ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের ইসলামপুর এরিয়ার চেয়ারপার্সন আনন্দ আগরওয়াল বলেন, গোটা ঘটনায় আমরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি। দীর্ঘদিন ধরে এই কারবার চলছে। পাম্প ব্যবসায়ীরা যেমন এতে ক্ষতির মুখে পড়ছেন, তেমনি সাধারণ মানুষ ঠকছেন। প্রশাসনের সক্রিয়তা প্রয়োজন। আমরা হস্তক্ষেপের দাবি করছি। ইসলামপুরের মহকুমা শাসক সপ্তর্ষি নাগ বলেন, বিষয়টি অবশ্যই উদ্বেগের। গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে এই বেআইনি কারবার রুখতে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, লিকার মাফিয়াদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ থাকায় এই তেল মাফিয়াদের কেউ ঘাঁটাতে চায় না বলে কারবারের সঙ্গে যুক্ত একাংশই দাবি করেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেবে সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।