ভুট্টা ভাঙানোর আড়ালে প্লাস্টিকের অবৈধ কারবার

262

অনির্বাণ চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ : ভুট্টার কারখানাকে সামনে রেখে লাইসেন্স ছাড়াই অবাধে চলছে ক্যারিব্যাগ তৈরির কারখানা। কালিয়াগঞ্জ জুড়ে যত্রতত্র গজিয়ে উঠেছে এই ধরনের একাধিক কারখানা। কোনওরকম সরকারি অনুমতি ছাড়াই বুক চিতিয়ে এই ব্যবসা করে চলেছেন এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী।

উত্তর দিনাজপুরের জেলা শিল্প কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার সুনীলচন্দ্র সরকার জানালেন, এই ভাবে অবৈধ ব্যবসা করলে আগামীদিনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষকেও এই বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন হতে হবে। নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন কালিয়াগঞ্জ পুরসভার পুর প্রশাসক শচীন সিংহ রায়।

- Advertisement -

কালিয়াগঞ্জের-১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মদন কেডিয়ার উত্তর চিড়াইল পাড়ায় একটি ক্যারিব্যাগ তৈরির কারখানা রয়েছে। মদনবাবুকে জিজ্ঞাসা করতেই অকপটে তিনি স্বীকার করেন, ক্যারিব্যাগ তৈরির বিষয়ে কালিয়াগঞ্জ পুরসভার কোনও অনুমতিপত্র আমার কাছে নেই। তবে নির্দিষ্ট দপ্তরের কোনও অনুমতি না থাকলেও প্লাস্টিকের দানা তৈরির কারখানা করার লাইসেন্স আমার রয়েছে। সরকারি অনুমতি ছাড়া কেন চালিয়ে যাচ্ছেন ক্যারিব্যাগ তৈরির কারখানা? উত্তরে মদন কেডিয়ার যুক্তি, একমাত্র গরিব কর্মচারীদের রুজিরোজগারের কথা ভেবেই বছরের কিছুটা সময় এই ক্যারিব্যাগ তৈরির ব্যবসা করি। ভুট্টা ভাঙানোর কাজ বছরে কিছুদিন বন্ধ থাকে। ওই সময় কর্মচারীদের পেটের কথা ভেবে পুরোনো মেশিন দিয়ে ক্যারিব্যাগ তৈরি করা হয়। এই ব্যবসা অবৈধ তা আমিও জানি। কিন্তু কিছু করার নেই। তবে ৪০ মাইক্রনের ক্যারিব্যাগ তৈরি হয়।

উত্তর চিড়াইল পাড়ার বাসিন্দা জাহাঙ্গির কবির জানান, মদন কেডিয়ার পার্শ্ববর্তী জমি আমার। একসময় আমার কাছে লিখিত অনুমতি চেয়েছিলেন মদনবাবু। আমি সই করিনি। তার পরেও কীভাবে অবৈধ ক্যারিব্যাগ তৈরির কারখানা চলছে, বুঝতে পারছি না। নেতাজি মিল সংলগ্ন এলাকায় আরও একটি ক্যারিব্যাগ তৈরির কারখানা অবৈধভাবে চলছে।

উল্লেখ্য, গত রবিবার এমনই এক প্লাস্টিকের কারখানায় বিধ্বংসী আগুন লাগে মালদার সুজাপুরে। অতীতে এই সুজাপুরের প্লাস্টিক কারখানায় আগুন লেগে শ্রমিকদের মৃত্যুও হয়েছে। জনবসতি পূর্ণ এলাকায় কীভাবে সকলের চোখের সামনে চলছে এই ব্যবসা? অগ্নি নির্বাপক দপ্তরের অনুমতি ছাড়াই কার অঙ্গুলিহেলনে এইভাবে অবৈধ ব্যবসা করার সাহস পাচ্ছেন এইসব অসাধু ব্যবসায়ীরা?

কালিয়াগঞ্জ দমকল বিভাগের আধিকারিক শান্তনু মজুমদার বলেন, শুনেছি কালিয়াগঞ্জে অবৈধ ক্যারিব্যাগ তৈরির কারখানা রয়েছে। কিন্তু কোথায় রয়েছে আমার তা জানা নেই। আমরা এবিষয়ে নজর রাখছি। আগামীদিনে অবশ্যই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কালিয়াগঞ্জের বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিক আলি আহমেদের বক্তব্য, এই বিষয়ে আমার কোনও কিছু বলার এক্তিয়ার নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবিষয়ে বলতে পারবেন।