মহম্মদ হাসিম, নকশালবাড়ি : নকশালবাড়ি ব্লকের হাতিঘিসা গ্রাম পঞ্চায়েতের সেবদেল্লা মৌজা এলাকায় সরকারি নির্দেশিকার বোর্ড ভেঙে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এশিয়ান হাইওয়ে ২-এর হাতিঘিসা টোল প্লাজার পাশে রয়েছে সেবদেল্লা মৌজা। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সেখানে জমি মাফিযারা অসম, মণিপুর, মেঘালয়ের বাসিন্দাদের কাছে সরকারি জমিগুলি বিক্রি করে প্লটিং শুরু করেছে। শুধু তাই নয়, এই সরকারি জমিগুলিতে ইতিমধ্যে বহুতল নির্মাণ শুরু হয়ে গিয়েছে। সব কিছু জেনেও প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ।

এখানে গত বছর অগাস্ট মাসে প্রায় ৮০টি পরিবারকে সরকারি জমিতে অবৈধ নির্মাণ ও প্লটিং বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করেছিল নকশালবাড়ির ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর। বিষয়টি নিয়ে উত্তরবঙ্গ সংবাদ-এ খবরও প্রকাশিত হয়। সরকারি জমিগুলিতে বোর্ড লাগানোর ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের বোর্ডগুলি ভেঙে আবার সেবদেল্লা মৌজায় বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। সরকারি জমিতে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কী করে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে, সে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার কৃষকরা। সেবদেল্লা মৌজায় প্রায় ৮০ বিঘা সরকারি কৃষিজমি প্লটিং করা হয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দা তথা সারা ভারত কৃষকসভার দার্জিলিং জেলার সেক্রেটারি ঝরেন রায় বলেন, হাতিঘিসার সেবদেল্লা মৌজাতে সরকারি জমি দখল ও কৃষিজমির প্লটিং বন্ধে আমরা ইতিমধ্যে নকশালবাড়ি ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে একটি ডেপুটেশন দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। শাসকদলের মদতে, পুলিশ এবং ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের সহযোগিতায়, মাফিয়াদের কাছ থেকে মোটা টাকার বিনিময়ে এসব করা হচ্ছে। তাঁর আরও অভিযোগ, জমিদারগুড়িতে কৃষিজমিগুলির চরিত্র বদল করে সেখানে প্লটিং করা হচ্ছে। নকশালবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ অমর সিনহা বলেন, আমরা সেবদেল্লা মৌজায় সরকারি জমিগুলিতে আবার নির্মাণ ও প্লটিংয়ের অভিযোগ পেয়ে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিককে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওযার আর্জি জানিয়েছিলাম। খোঁজ নিয়ে দেখব কেন পদক্ষেপ করা হয়নি।

নকশালবাড়ি ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিক ডি এল ভুটিয়া বলেন, সেবদেল্লা মৌজার বিষয়টি নিয়ে আমরা নকশালবাড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। এই বিষয়ে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। হাতিঘিসার জমিদারগুড়িতে কৃষিজমিগুলিতে যে প্লটিং শুরু হয়েছে, সেগুলি খতিযানভুক্ত জমি। তাই আমরা সেখানে কিছু করতে পারব না। নকশালবাড়ি থানার ওসি সুজিত দাস বলেন, নকশালবাড়ি ভূমি ও ভূমি দপ্তর থেকে সরকারি জমি দখলের কোনও অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। নকশালবাড়ির বিডিও বাপি ধর বলেন, হাতিঘিসার সেবদেল্লা মৌজাতে সরকারি জমির দখল রুখতে বোর্ড লাগানো হয়েছিল। সেখানে আবার নির্মাণকাজ শুরু হয়ে থাকলে খোঁজ নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।