কুমোরটুলিতে অনুমতি ছাড়াই বহুতল নির্মাণ

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : শিলিগুড়ির কুমোরটুলিতে কোনও অনুমতি ছাড়াই দেদারে বহুতল তৈরি করা হচ্ছে। কুমোরটুলিতে থাকা কারখানাগুলির একাংশকে কেন্দ্র করেই এই কাজ চলছে। তিনতলা, চারতলা পর্যন্ত করা হচ্ছে। শিলিগুড়ি মৃৎশিল্প উন্নয়ন সমিতি বিষয়টি স্বীকার করেছে। এ বিষয়ে পুরনিগম নোটিশ পাঠালেও তাতে গুরুত্ব দেয়নি অবৈধ নির্মাণকারীরা। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মদতের অভিযোগ উঠেছে।

প্রায় ৪ বিঘা ১৩ একর জমির উপর গড়ে ওঠা উত্তরবঙ্গের অন্যতম বড় এই কুমোরটুলিতে প্রায় ৩০টিরও বেশি কারখানা রয়েছে। শিলিগুড়ি মৃৎশিল্প উন্নয়ন সমিতির সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে কুমোরটুলিতে মৃৎশিল্পের কাজ শুরু হলেও ১৯৯৩ সালে তৎকালীন মালিকের কাছ থেকে এই জমিটি সমিতি কেনে। এরপর লটারির মাধ্যমে মৃৎশিল্পীদের হাতে প্লট হিসেবে কারখানার জায়গা তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে এই সমস্ত কারখানার একাংশকে কেন্দ্র করে পাকাপাকিভাবে বহুতল নির্মাণও শুরু হয়েছে। ঘেঁষাঘেঁষি করে তিনতলা, চারতলা ভবন কোনও প্ল্যান ছাড়াই তৈরি করা হয়েছে। প্লটের বাইরের অংশও দখল করার অভিযোগ উঠেছে। ঠিক যেমন কুমোরটুলি ভবনের কাছে একটি কারখানার আশপাশ ঢেকে নির্মাণকাজ হয়েছে।

- Advertisement -

এব্যাপারে মৃৎশিল্প উন্নয়ন সমিতি পুরনিগমের কাছে দ্বারস্থ হওয়ার পর পুরনিগম সংশ্লিষ্ট নির্মাণকাজের বিরুদ্ধে নোটিশ দিয়েছিল। কিন্তু লকডাউনের সুযোগে নোটিশের তোয়াক্কা না করে ওই অবৈধ বহুতলের ভেতরের কাজ করা হয়েছে। মৃৎশিল্প উন্নয়ন সমিতির সভাপতি অধীর পাল বলেন, আমরা যখন যা অভিযোগ পাচ্ছি, তখনই পুরনিগমকে জানিয়ে দিচ্ছি। কিন্তু এরপরও নির্মাণকাজ কী করে চলছে, কিছুক্ষেত্রে পুরনিগম নোটিশ দিয়ে গেলেও তা বন্ধ করা হচ্ছে না, সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এর পেছনে রাজনৈতিক মদত রয়েছে। তা না হলে কোনওভাবেই এভাবে প্রকাশ্যে বেআইনি নির্মাণ করা যেতে পারে না।

৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোঅর্ডিনেটর পরিমল মিত্র বলেন, আমি নিজে গিয়ে বারবার এই নির্মাণের বিরোধিতা করেছি। কিন্তু অবৈধ নির্মাণকারীরা কিছুই মানছে না। আমি আগেও পুরনিগমকে জানিয়েছি, ফের জানাব। পুরনিগমের বিল্ডিং বিভাগের দায়িত্বে থাকা তথা প্রশাসকমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য মুন্সী নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা শহরজুড়ে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে খোঁজখবর শুরু করেছি। কুমোরটুলিতেও করব। আইন ভেঙে নির্মাণ হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।