এসএফ রোড, ফুলেশ্বরীতে বেআইনি নির্মাণ

ভাস্কর বাগচী, শিলিগুড়ি : স্টেশন ফিডার রোড বা এসএফ রোড শিলিগুড়ি শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা হিসাবে পরিচিত। এই রাস্তার ধারে নিকাশিনালার উপর দেওয়াল তুলে অবাধে নির্মাণকাজ চলছে। ২০ এবং ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগকারী ফুলেশ্বরী নদী দিনকে দিন শুকিয়ে চলেছে। নদীর গার্ডওয়ালের উপর পাকা বাড়ি তোলা হচ্ছে। এই প্রবণতা বজায় থাকলে মজে যাওয়া নদীটি আরও মজে যেতে সময় নেবে না বলে আশঙ্কা ছড়িয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে কিছুটা হলেও পুরনিগমের নজরদারির কাজকর্মে ভাটা পড়েছে। এই সুযোগে শহরজুড়ে বেআইনি নির্মাণের রমরমা শুরু হয়েছে বলে অভিয়োগ। ঘটনার জেরে শিলিগুড়ি পুরনিগমের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ জোরালো হতে শুরু করেছে। পুরনিগম অবশ্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

শিলিগুড়ি পুরনিগমের বিদায়ি বিরোধী দলনেতা তথা তৃণমূল কংগ্রেসের দার্জিলিং জেলা সভাপতি রঞ্জন সরকার বলেন, এসএফ রোডে সবার চোখের সামনে বেআইনি নির্মাণ চলছে। অথচ পুরনিগমের তা জানা নেই। এটা কি আদৌ বিশ্বাসযোগ্য? বুলডোজার চালিয়ে ওই বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলতে হবে। সাতদিনের মধ্যে ওই বেআইনি নির্মাণ না ভাঙা হলে আমরা সেটির সামনেই অবস্থানে বসব। শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য তথা বিল্ডিং বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নুরুল ইসলাম বলেন, ফুলেশ্বরীর গার্ডওয়ালের উপর যারা পাকা বাড়ি তৈরি করছে আমরা তাদের নোটিশ দিয়েছি। তবে, এসএফ রোডে বেআইনি নির্মাণকাজের বিষয়ে কিছু জানা নেই। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তাঁরা ব্যবস্থা নেবেন বলে নুরুল সাহেব জানান। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে কেন অভিযোগ জমা পড়া পর্যন্ত পুরনিগমকে অপেক্ষা করতে হবে বলে প্রশ্ন ওঠা শুরু হয়েছে। কেন কোনও নির্মীয়মাণ কাজ নিয়ম মেনে করা হচ্ছে না, তা কেন দেখা হবে না বলেও প্রশ্ন জোরালো হয়েছে।

- Advertisement -

লকডাউনের সময় পুরনিগমের সেভাবে নজর না থাকার সুযোগ নিয়ে শিলিগুড়ির বেশ কিছু ওয়ার্ডে প্রোমোটাররা নিজেদের ইচ্ছেমতো নির্মাণকাজ চালিয়েছেন। কোথাও ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাড়ি তৈরি করার ক্ষেত্রে পুরনিগমের প্ল্যানের তোয়াক্কা পর্যন্ত করা হয়নি। সূত্রের খবর, ছোট-বড় মিলে পুরনিগমের বিল্ডিং বিভাগে ২৫টিরও বেশি বেআইনি নির্মাণকাজের তালিকা জমা পড়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে সেগুলির মধ্যে কয়েকটির নির্মাণকাজ ইতিমধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বেআইনি নির্মাণকাজ রুখতে আলাদা টিম গঠন করে পরিদর্শনের কাজ শুরু হয়েছে বলে পুরনিগম জানিয়েছিল। তবে করোনা পরিস্থিতির জেরে মাঝে বেশ কিছুদিন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর মধ্যে যেভাবে প্রতিদিনই বেআইনি নির্মাণকাজের বিষয় সামনে আসছে তাতে পুরনিগমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।