ভাস্কর বাগচী, শিলিগুড়ি : মহানন্দার দখল শেষ। এবার হাত পড়েছে বালাসনে। মহানন্দার চর দখল হয়েছে কয়েক দশক আগেই। বাম আমলে সিপিএম নেতাদের টাকা দিয়ে মহানন্দার চর অল্প অল্প করে প্রায় পুরোটাই দখল হয়েছে বলে অভিযোগ। দখল করে শুধু বসবাস নয়, মহানন্দার ধারে খাটাল বানিয়ে রীতিমতো ব্যবসাজুড়ে হাজার হাজার টাকা কামাচ্ছেন দখলকারীরাই। মহানন্দা দখল শেষে এবার মাটিগাড়ার বালাসন নদী দখলে হাত দেওয়া হয়েছে। শুধুই কি দখল, চরে তৈরি হচ্ছে দ্বিতল বাড়িও। কিন্তু সব দেখেশুনেও চুপ প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই ঘরবাড়ি তৈরির কাজ। কিন্তু এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে সেভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি দেখে দখলকারীদের সাহস বেড়েছে কয়েকগুণ। তাই শুরু হয়েছে দ্বিতল বাড়ি বানানোর কাজ।

শিলিগুড়ি থেকে শিবমন্দির কিংবা বাগডোগরা যাওয়ার রাস্তায় বালাসন সেতুর উপর দাঁড়ালেই এই অবৈধ নির্মাণ চোখে পড়বে। জানা গিয়েছে, যাঁরা এখানে নদীর চর দখল করছেন, তাঁদের বেশিরভাগই বহিরাগত। স্থানীয় প্রভাবশালী কর্তাব্যক্তিদের হাত করে, নদীর চরে একটুকরো জায়গা দখল করার রীতি বহুদিনের। মহানন্দার ক্ষেত্রেও যেমন হয়েছে, বালাসনের ক্ষেত্রেও এমনটা শুরু হয়েছে। যাঁরা দখল করছেন, তাঁরা যেহেতু কোনো বাধা পান না, তাই বহালতবিয়তে দখল হওয়া জায়গায় পাকা বাড়ি, দ্বিতল বাড়ি তৈরিও শুরু করে দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যাঁরা চর দখল করছেন, তাঁরা কিছুদিনের মধ্যেই তাঁদের আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে ফের চর দখল করছেন। এভাবে দিনের পর দিন চর দখল হতে হতে প্রায় নদীর পাশেই বাড়ি তৈরি হচ্ছে। একশ্রেণির জমি মাফিয়া এই ধরনের কাজ করছেন বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ, শাসকদলের ছত্রছায়ায় থেকে বহিরাগতদের থেকে ৫-৬ লক্ষ টাকা করে নিয়ে চরে বসার সুযোগ করে দিচ্ছে জমি মাফিয়ারা।

মহানন্দা বাঁচাও কমিটির সম্পাদিকা জ্যোৎস্না আগরওয়াল বলেন, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী বারংবার বলছেন নদীর চর দখল করা যাবে না, সেখানে প্রশাসনের নাকের ডগায় এইসব কাজ হচ্ছে। প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে ওইসব ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া। কারণ কখনও যদি হড়পা আসে তবে কিন্তু বিপদে পড়বেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। নদীর চর দখল হওয়ায় বিরক্ত মাটিগাড়া-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান প্রিযাংকা বিশ্বাস বলেন, নদীর মধ্যে বাড়ি হচ্ছে। এইসব নিয়ে বহুবার লেখালেখি করেছি। প্রশাসনের থেকে কিছুই হচ্ছে না। একটা গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষে তো এসব বন্ধ করা সম্ভব নয়। সমানে চর বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। ওখানে গেলে শোনা যায়, ৫-৬ লক্ষ টাকায় চর বিক্রি হচ্ছে। সব বাইরের লোক এসে এখানে চর দখল করে থাকছেন। এ ব্যাপারে মাটিগাড়ার বিডিও রুনু রায় বলেন, আমরা এই বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকবার মিটিং করেছি। সামনে আবার মিটিং রয়েছে। সমীক্ষা করার পর দখলদার চিহ্নিত করা হয়েছে। যেভাবে আমরা নির্দেশ পাব, সেইমতোই কাজ করা হবে।