ধূপগুড়ি বাজারে অবৈধ নির্মাণ, জানে না জেলা পরিষদ

81

সপ্তর্ষি সরকার, ধূপগুড়ি : বর্তমানে অতিমারি পরিস্থিতিতেও জেলা পরিষদের অধীনস্থ বাজার এলাকায় দেদারে চলছে অবৈধ নির্মাণকাজ। সূত্রের খবর, বাজারজুড়ে বিভিন্ন অংশে চলা স্থায়ী দোকানঘর নির্মাণকাজের জন্য ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে আগুনে ভস্মীভূত বাজারের একাংশের ১১৪টি দোকানকে। যদিও জেলা পরিষদের তরফে পুরো বিষয়টি অজানা বলেই জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা শাসক সমীরণ মণ্ডল বলেন, নির্মাণকাজের জন্য এমন কোনও অনুমতি কাউকে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে কোনও অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুরসভার তরফেও পুরো বিষয়টি চাপানো হয়েছে জেলা পরিষদের ঘাড়ে। উপপুরপ্রধান রাজেশকুমার সিং বলেন, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি আরও অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত দোকান সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের জন্য আবেদন ও প্ল্যান পুরসভায় জমা দিয়েছিলেন। সবটাই জেলা পরিষদে পাঠিয়ে দিয়েছি। এরপর অনুমোদিত কোনও প্ল্যান আমাদের কাছে আসেনি। সরকারিবিধি মেনে নির্মাণকাজ হওয়া উচিত এবং পুরো বিষয়টি জেলা পরিষদ তাদের আইন অনুযায়ী দেখবে বলে আমার বিশ্বাস।

- Advertisement -

গত বছর ১৭ ডিসেম্বর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ধূপগুড়ি জেলা পরিষদ নিয়ন্ত্রিত বাজারে থানা রোডের পাশে ১১৪টি ছোট-বড় দোকানঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। নানা টানাপোড়েনের পর ক্ষতিগ্রস্ত ওই ১১৪টি দোকানঘর স্থায়ীভাবে নির্মাণের ক্ষেত্রে জেলা পরিষদ নিয়মে কিছুটা শিথিলতা এবং সহানুভূতি দেখানোয় ধূপগুড়ি বাজার এলাকাজুড়ে শুরু হয়ে যায় একাধিক পাকা স্থায়ী দোকান এমনকি কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ। পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোকে ঢাল করে ইতিমধ্যেই বাজারের মশলাপট্টি, হাঁড়িহাটি, চুড়িপট্টি, কলেজ রোডে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন জমিতে চলছে ছাদ সহ পাকা দোকানঘর নির্মাণের কাজ।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্যবসায়ী সংগঠন ধূপগুড়ি ব্যবসায়ী সমিতি। সংগঠনের সম্পাদক দেবাশিস দত্ত বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন এর পেছনে কোনও সংগঠিত চক্র সক্রিয় রয়েছে, যারা বিধিবর্হিভূতভাবে নির্মাণকাজে মদত দিচ্ছে। আমাদের সংগঠন মনে করে নিয়ম মেনে দ্রুত নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হোক। তাহলে অনিয়মের অভিযোগ যেমন উঠবে না, তেমনই পুরসভা ও জেলা পরিষদের রাজস্বও আদায় হবে।

বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন শাসকদল তৃণমূলের নেতারাও। তৃণমূল টাউন ব্লক সভাপতি দেবদুলাল ঘোষ বলেন, সরকারি নিয়মকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চূড়ান্ত অবৈজ্ঞানিকভাবে ধূপগুড়ি বাজারের যত্রতত্র নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে কার্যত বাজার জতুগৃহে পরিণত হচ্ছে এবং নিকাশি সমস্যাও ভয়াবহ রূপ নেবে। এ নিয়ে পুরসভায় অভিযোগ জানিয়েছি। তবে তার প্রাপ্তিস্বীকার করা হয়নি। জেলা শাসক ও জেলা পরিষদের কাছেও চিঠি দিচ্ছি আমি।

সরকারি জমি জবরদখল এবং বিধি ভেঙে নির্মাণকাজকে এবারেও জেলা পরিষদের তরফে অনুমোদন দেওয়া হয় নাকি আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হয় তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে জেলা পরিষদের জমিতে অস্থায়ী বাড়ি ও দোকান করে থাকা আবাসিক ও ব্যবসায়ীদের। যদি জেলা পরিষদ এবারেও কড়া পদক্ষেপ না করে তাহলে অচিরে গোটা বাজার এলাকাতে একই কায়দায় শুরু হয়ে যাবে স্থায়ী পরিকাঠামো নির্মাণ।