বিএসএনএল অফিসের সামনে অবৈধ নির্মাণ

61

বিশ্বজিৎ সাহা, মাথাভাঙ্গা : বিধানসভা নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, মাথাভাঙ্গা শহর ও লাগোয়া এলাকায় সরকারি জমি দখল করে বেআইনি নির্মাণও বাড়ছে। খোদ মাথাভাঙ্গা শহরে সরকারি জমি দখল করে একের পর এক বেআইনি নির্মাণ চলতে থাকলেও নির্বিকার পুরসভা ও প্রশাসন। প্রতিটি নির্বাচনের আগেই শহরে বেআইনি নির্মাণের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। শহরের মূল রাস্তার ধারে প্রকাশ্যেই বেআইনি নির্মাণ চলতে থাকলেও ঝামেলার ভয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করা বা মুখ খুলতে সাহস পান না অনেকেই। বৃহস্পতিবার মাথাভাঙ্গা শহরের ইমিগ্রেশন রোডে বিএসএনএল অফিসের গেটের মুখে প্রকাশ্যেই বেআইনি নির্মাণ চলতে দেখা গেল। ওই এলাকায় সরকারি জমি দখল করে দোকানঘর তৈরি করা হচ্ছে।

স্বাভাবিক সময়ে শহরজুড়ে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায়নি মাথাভাঙ্গা পুরসভা কর্তৃপক্ষকে। নির্বাচনের মুখে বেআইনি নির্মাণের বিষয়ে মাথাভাঙ্গা পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান লক্ষপতি প্রামাণিককে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পূর্ত (সড়ক) দপ্তরের মাথাভাঙ্গার অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার শংকর রায়ও বলেন, পূর্ত বিভাগের ফুটপাথ ও সংলগ্ন জমি দখল করে বেআইনি নির্মাণ হচ্ছে কি না তা আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

- Advertisement -

নির্বাচনের প্রাক্কালে শহরজুড়ে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে পুরসভা ও প্রশাসনের ভূমিকায় বীতশ্রদ্ধ শহরবাসীর অনেকেই। শহরের বাসিন্দা তথা ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির মাথাভাঙ্গা শাখা সম্পাদক তন্ময় চক্রবর্তী বলেন, শহরজুড়ে বেআইনি নির্মাণের বিষয়টি সাধারণ মানুষের নজরে আসছে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে না এটা আশ্চর্যের। আমার মনে হয় সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ বেআইনি নির্মাণ দেখেও না দেখার ভান করেন। কারণ তাঁরা জানেন, একবার নির্মাণকাজ হয়ে গেলে মাথাভাঙ্গায় সেগুলি আর ভাঙা হয় না। বিএসএনএলের মাথাভাঙ্গার সাব-ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার অমিত পাল বলেন, অফিসের সামনে যে নিকাশিনালাটি রয়েছে, সেটি দীর্ঘদিন ধরে সাফাই করা হয় না। আর নালার সামনের অংশ দখল করে বেআইনি নির্মাণ হওয়ায় সাফাইকর্মীদের নর্দমা সাফাইয়ে সমস্যা হবে।