জয়ন্তীতে অবাধে তৈরি হচ্ছে রিসর্ট, হোটেল

148

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : জয়ন্তীতে কোনও রিসর্ট, হোটেল তৈরি করা যাবে না। এবিষয়ে গ্রিন ট্রাইবিউনালের নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু সেই নির্দেশকে থোড়াই কেয়ার! জয়ন্তীতে অবাধে রিসর্ট, হোটেল তৈরি চলছে। জয়ন্তী নদীবাঁধের পাশে থাকা পিএইচই দপ্তরের বাংলো ঘেঁষে প্রায় ছয়টি রিসর্ট, হোটেল তৈরি করা হচ্ছে। রিসর্টগুলি পাকাপাকিভাবে তৈরি করা হচ্ছে। এগুলির মধ্যে একটির কাজ প্রায় শেষ। নদীবাঁধের শেষের দিকে একটি রিসর্টের নির্মাণকাজে আবার স্টিলের নানা খুঁটিনাটি ব্যবহার হয়েছে। তবে স্থানীয়ভাবে কেউ এই নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত নন। আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, শিলিগুড়ি এমনকি কলকাতার কিছু প্রভাবশালী মানুষ এই নির্মাণকাজে জড়িয়ে নদীবাঁধের শেষের দিকে মূলত স্টিলের ফ্রেমে যে রিসর্টটি তৈরি করা হচ্ছে সেটির সঙ্গে কোচবিহারের প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতা জড়িয়ে আছেন।

গ্রিন ট্রাইবিউনালের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে এভাবে বেআইনি এই নির্মাণকাজ চলায় প্রশ্ন উঠেছে। রিসর্ট, হোটেল তৈরির যাবতীয় সরঞ্জাম বন দপ্তরের রাজাভাতখাওয়া গেট দিয়ে জয়ন্তীতে যাচ্ছে। অভিযোগ, বন দপ্তর সব জেনেও কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাই বন দপ্তরের একশ্রেণির কর্মী-আধিকারিক এঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

- Advertisement -

বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত বলেন, জয়ন্তীতে রিসর্ট, হোটেল তৈরি পুরোপুরিভাবে নিষিদ্ধ। কীভাবে সেখানে এসব তৈরি হচ্ছে জানি না। আমি এলাকায় গিয়ে গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখব। প্রযোজনে বিষয়টি গ্রিন ট্রাইবিউনালের নজরে আনা হবে। আলিপুরদুয়ারের বিশিষ্ট আইনজীবী সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, বন দপ্তরের নাকের ডগা দিয়ে নির্মাণসামগ্রী নিয়ে গিয়ে জয়ন্তীতে বেআইনি নির্মাণকাজ করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের রুটিরুজির জন্য হোমস্টে বানালেও মানা যায়, কিন্তু যাঁরা জয়ন্তীতে রিসর্ট, হোটেল বানাচ্ছেন তাঁরা সবাই বাইরের। অবিলম্বে প্রশাসনের এবিষয়ে পদক্ষেপ করা প্রযোজন। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে বক্সা ব্যাঘ্র-প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা (এফডি) বুদ্ধরাজ শেওয়া জানিয়েছেন।

রাজাভাতখাওয়া গ্রাম পঞ্চায়েততের জয়ন্তীতে রিসর্ট, হোটেল তৈরিতে বিধিনিষেধ আছে তো বটেই, পাশাপাশি জয়ন্তী নদী থেকেও বালি-পাথর তোলা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কিন্তু সমস্ত নিষেধাজ্ঞাকে উড়িয়ে এখানে রমরমিয়ে বেআইনি নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে লকডাউনের সুযোগ নিয়ে অনেকে এখানে এসে এসব নির্মাণকাজ শুরু করেছেন। এইসব মানুষ কীভাবে এখানে এসে এসব কাজে জড়ানোর সুযোগ পেয়েছে সেই প্রশ্ন বড় হয়ে উঠেছে। সূত্রের খবর, বাইরে থেকে আসা এসব মানুষ দুঃস্থদের প্রচুর টাকা ও কাজের সুযোগের টোপ দিয়ে তাদের কাছ থেকে জমি হাতিয়ে নিচ্ছে। পরে তারা এইসব মানুষকে কোনও টাকা তো দূরের কথা, কোনও কাজও দিচ্ছে না।

গোটা বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বেশ ক্ষুব্ধ। এক এলাকাবাসীর কথায়, স্টিলের ফ্রেমে রিসর্টটি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে কোনও সমস্যা হলে সেটিকে চটজলদি খুলে ফেলা সম্ভব। সবকিছু বন দপ্তরকে জানালেও তারা কোনও পদক্ষেপ করছে না। আরেক এলাকাবাসীর কথায়, প্রভাবশালী এইসব মানুষের সঙ্গে প্রশাসনের যোগসাজশ থাকায় তারা যা ইচ্ছে তাই করছে। সমস্যা হলেও আমরা ভয়ে কিছু বলার সাহস পাই না।