শিলিগুড়ি, মে :  শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৪ নম্বর ওযার্ডের গভর্নমেন্ট শ-মিল রোড এলাকায় অবৈধভাবে বহুতল নির্মাণ চলছে। গভর্নমেন্ট শ-মিল রোড ও সংলগ্ন রেললাইনের মধ্যবর্তী নীচু জমি বরাবর কোথাও দোতলা, কোথাও ভিত তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে পুরনিগমের নজরদারি নিয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলার পরিমল মিত্র অবশ্য রেললাইনের ধার বরাবর এই দখলদারি ও নির্মাণের জন্য রেলের ঘাড়েই দায় চাপিয়েছেন। অন্যদিকে, শিলিগুড়ি টাউন সিনিয়র সেকশন ইঞ্জিনিযার (ওযার্কস)-এর আধিকারিক রানা রায় বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গভর্নমেন্ট শ-মিল রোডের রেললাইনের ধার বরাবর এই এলাকাটি দখল করে বেশকিছু বছর আগে ঝুপড়ি তৈরি হয়েছিল। প্রথমদিকে ঝুপড়িতে ছোটো ছোটো কাঠের ঘর থাকলেও এখন সেই কাঠের ঘরগুলি ভেঙে বহুতল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। গভর্নমেন্ট শ-মিল রোড সংলগ্ন মডার্ন বয়েজ ক্লাবের মাঠ পেরিয়ে ঝুপড়ির সামনে একটি নির্মীযমাণ বহুতলের তিনতলার কাজ হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই।

কিন্তু কীভাবে চলছে এই কাজ? সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিক শোভা মাহাতো বলেন, বহুদিন ধরে রেলের এই জায়গায় আমরা রয়েছি। বাড়িতে লোকসংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। তাই এই বহুতল তৈরি করছি। পুরনিগমের নিয়ম অনুসারে বহুতল নির্মাণের জন্য অনুমতির ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এব্যাপারে কারও কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়নি। ওই অবৈধ নির্মাণেরই কিছুটা দূরে লোহার রড দিয়ে কয়েকজন শ্রমিককে ভিত নির্মাণ করতে দেখা গেল। বাড়ির মালিক অবশ্য নিজের নাম বলতে চাননি। যদিও এই অবৈধ কাজ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য, আশপাশে বহুতল তৈরি হচ্ছে। তাই ভাবলাম আমিও করি।

শুধু এই দুই বাড়িই নয়, পিলার তুলে এই এলাকায় একইরকমভাবে বেশকিছু নির্মাণ চলছে। এদিকে, বিষয়টি নিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার বাসিন্দা অজয় সাহা বলেন, জায়গাটি এমনিতেই দখল হয়ে গিয়েছে। কর্তৃক্ষের কোনো নজর না থাকায় এখন এখানে বহুতল নির্মাণ শুরু হয়েছে। পাশেই রেললাইন থাকায় ট্রেন গেলেই পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। নিয়ম ছাড়া যেভাবে এই নির্মাণ চলছে তাতে এগুলির স্থায়িত্ব নিয়ে মনে ভয় দানা বাঁধছে।

ওয়ার্ড কাউন্সিলার পরিমল মিত্র বলেন, জায়গাটি রেলের। আমরা এই অবৈধ দখলদারির বিষয়ে রেলের কাছে একাধিকবার চিঠি করেছি। কিন্তু কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি। আমরা ফের চিঠি করব। পুরনিগমের পূর্ত বিভাগের মেয়র পারিষদ মুন্সি নুরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। এবিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।