বাতারিয়ার পথ আটকে বেআইনি নির্মাণ রঘুজোতে

366

মহম্মদ হাসিম, নকশালবাড়ি : নকশালবাড়িতে মণিরাম গ্রাম পঞ্চায়েতের রঘুজোতে বাতারিয়া নদীর গতিপথ আটকে বেআইনি নির্মাণকাজ চলছে। এর জেরে নদী সংকীর্ণ হয়ে পড়ায় পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলি প্লাবিত হচ্ছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীটির গতিপথ আটকে বছরখানেক আগে এই বেআইনি নির্মাণগুলি গড়ে তোলা হয়। অবিলম্বে সমস্যা মেটানোর দাবিতে বাসিন্দারা সরব হয়েছেন। নইলে তাঁরা আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন। মণিরাম গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তৃণমূল কংগ্রেসের লছমি লামা বলেন, এলাকার অবৈধ এই নির্মাণগুলির বিরুদ্ধে বাসিন্দারা আমাদের অভিযোগ জানিয়েছেন। উপপ্রধানের সঙ্গে আলোচনা করে অবিলম্বে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নকশালবাড়ির বিডিও বাপি ধর আশ্বাস দিয়েছেন।

রঘুজোতের বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরখানেক আগে স্থানীয় কিছু জমি মাফিয়া বাতারিয়া নদীর চর দখল করে। পরে বহিরাগতদের কাছে এই জমি এক লক্ষ টাকা প্রতি কাঠা হিসেবে বিক্রি করা হয়। এই বহিরাগতরা এখানে টিনের ঘর তৈরি করে বসবাস শুরু করে। পরবর্তীতে এদের কয়েকজন এখানে পাকা ঘরও তৈরি করে। ইতিমধ্যে নদীর জায়গা দখল করে দুপাশে পিলার দিয়ে প্রাচীরও তৈরি করা হয়েছে। অভিযোগ, এভাবে গতিপথ আটকে বেআইনি নির্মাণকাজ চালানোর জেরে নদীর জল গ্রামে ঢুকে পড়ছে। সম্প্রতি কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বাতারিয়া নদীতে জলের পরিমাণ বেড়ে গেলে নদীর চর সহ রঘুজোত এলাকার অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। এর জেরে বাসিন্দাদের বেশ কয়েকদিন ধরে সমস্যায় কাটাতে হয়েছে। রঘুজোত এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়িঘর, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এখনও জলকাদায় ডুবে রয়েছে। সমস্যা মেটাতে বাসিন্দারা বাতারিয়া নদীর দুপাশের বেআইনি নির্মাণগুলি ভাঙার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। পুরো বিষযটি জানিয়ে তাঁরাস্থানীয গ্রাম পঞ্চায়েতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ঝরিয়া ওরাওঁ, পরিতোষ বর্মন, সুভাষ বর্মন প্রমুখের অবশ্য অভিযোগ, পঞ্চায়েতের কর্মকর্তারা সবকিছু খতিয়ে দেখে গেলেও সমস্যা মেটাতে আজ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

- Advertisement -

ঝরিয়াবাবু বলেন, নদীর দুপাশের বেআইনি সমস্ত নির্মাণ ভাঙতে মণিরাম গ্রাম পঞ্চায়েছে আমরা অভিযোগ জানিয়েছি। কিন্তু তারা এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সমস্যা মেটাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বাসিন্দারা বড়োসড়ো আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন। স্থানীয পঞ্চায়েত সদস্য সিপিএমের শৈলেন রায় অবশ্য বলেন, স্থানীয়য বাসিন্দা সহ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের শিক্ষিকারা এলাকার এই অবৈধ নির্মাণগুলির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগ জানিয়েছেন। অবৈধ নির্মাণ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।